নতুন প্রতিষ্ঠিত ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্সে (DFHQ) বক্তৃতা দিতে গিয়ে মুনির বলেন, “ভারত যেন কোনও ভুল ধারণায় না থাকে। পরের বার পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত এবং আরও কঠোর হবে।"

আসিম মুনির
শেষ আপডেট: 8 December 2025 21:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পদে বসেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস (CDF) আসিম মুনির (Asim Munir)। দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে প্রথম ভাষণেই ভারতের (India Pakistan) উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা এবং আফগানিস্তানের (Afghanistan) তালিবান শাসকদের প্রতি সুর চড়ালেন তিনি।
নতুন প্রতিষ্ঠিত ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্সে (DFHQ) বক্তৃতা দিতে গিয়ে মুনির বলেন, “ভারত যেন কোনও ভুল ধারণায় না থাকে। পরের বার পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত এবং আরও কঠোর হবে। তালিবান শাসনকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— তাদের পাকিস্তান ও ফিতনা আল খারিজ (নিষিদ্ধ TTP-কে বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দ)–এর মধ্যে একটি পথ বেছে নিতেই হবে।”
এর পরই তাঁর ঘোষণা, “পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় দেশ। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাকিস্তানের ধারণা অজেয়— যাকে রক্ষা করছে ইমানদার যোদ্ধারা এবং ঐক্যবদ্ধ জাতির দৃঢ় সংকল্প।”
পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় সবচেয়ে বড় রদবদল
সপ্তাহ খানেক দেরিতে হলেও শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিডিএফ পদে বসেন মুনির। বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্তরের দশকের পর পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় এত বড় পরিবর্তন আর হয়নি। ২৭তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে একক সামরিক কমান্ড— যেখানে অপারেশন, প্রশাসন ও কৌশলগত ক্ষমতা একত্রে কেন্দ্রীভূত।
নতুন বিধানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ করে সেনাপ্রধান নিয়োগ করবেন এবং সেই সেনাপ্রধানই সমসাময়িকভাবে CDF হিসেবে কাজ করবেন। এর ফলে বাতিল হয়েছে ১৯৭৬ সালে তৈরি হওয়া যৌথ বাহিনী সমন্বয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (CJCSC) পদ। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে ১৯৫২ সালের পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্টও।
মেয়াদ বাড়ল সেনা প্রধানদের
২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আসেন ফিল্ড মার্শাল মুনির। পরে ২০২৪ সালের সংশোধনে তিন বাহিনীর প্রধানদের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। নতুন বিধানে পুনর্নিয়োগ বা মেয়াদ আরও পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী-পরামর্শপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি চাইলে মুনিরকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সিডিএফ হিসেবে রেখে দিতে পারবেন।
CDF-এ নিয়োগের দিন নৌবাহিনীর প্রধান নাভিদ আশরাফ এবং বিমানবাহিনীর প্রধান জহির আহমদ বাবর উপস্থিত ছিলেন। গার্ড অফ অনার পেয়েছেন মুনির। পাশাপাশি ‘মে মাসের সংঘর্ষ’-এ অংশ নেওয়া নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতার পুরস্কারও দেওয়া হয়।
ISPR-এর বিবৃতি অনুযায়ী, বক্তৃতায় মুনির বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সাইবার জগত, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, মহাকাশ, তথ্যযুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিকে সামনে রেখেই তিন বাহিনীকে যৌথভাবে এগোতে হবে।
তাঁর কথায়, “ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স প্রতিষ্ঠা এই পরিবর্তনের ইতিহাস তৈরি করল। প্রতিটি বাহিনী নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখবে, আর এই সদর দফতর তিন বাহিনীর কার্যক্রমকে সমন্বয় ও একত্রিত করবে।”