প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যে মার্কিন-পাক সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তা অনেকটাই বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 28 February 2026 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত (open war Pakistan Afghanistan) যখন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপে অনীহা দেখালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে পাকিস্তানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি (Trump statement Pakistan Afghanistan conflict), যা কূটনৈতিক অবস্থানের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে (global politics)।
শুক্রবার আফগানিস্তানে হামলার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, এই পরিস্থিতিতে তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারতেন, কিন্তু পাকিস্তানের কাছে অসাধারণ একজন প্রধানমন্ত্রী, একজন জেনারেল এবং সর্বোপরি এক শক্তিশালী নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Asim Munir) এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) প্রশংসা করে বলেন, পাকিস্তান “অসাধারণভাবে এগোচ্ছে”।
‘ওপেন ওয়ার’ ঘোষণা, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত সীমান্ত
এই মন্তব্যের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে “খোলা যুদ্ধ”-এর ঘোষণা করেন।
পাকিস্তানের দাবি, শুক্রবার তারা কাবুল ও কান্দাহার-সহ আফগানিস্তানের ২৯টি জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সরকারি মুখপাত্রের দাবি, এতে ২৯৭ জন তালিবান জঙ্গি নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ পাল্টা দাবি করেছেন, আফগান বাহিনী ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং কয়েকজনকে বন্দিও করেছে।
২০২১ সালে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহারের পর তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
‘যে কোনও আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে’: শরিফ
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দেন শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দেওয়ার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। গোটা দেশ সেনাবাহিনীর পাশে রয়েছে।”
মার্কিন সমর্থন, তালিবানের কড়া সমালোচনা
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে তারা সমর্থন করে। একইসঙ্গে তালিবানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগও তোলে ওয়াশিংটন।
তাদের মতে, তালিবান বারবার সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হয়েছে এবং আফগানিস্তানকে জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছে, যা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ শান্তির আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটেন যেমন উত্তেজনা কমানোর আহ্বান দিয়েছে, পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে এবং মধ্যস্থতার প্রস্তাব এসেছে ইরানের তরফে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে।
বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফতর, সামরিক ঘাঁটি এবং বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি সন্ত্রাসবাদীদের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। বিশেষ করে ভিড়ের সময় এই জায়গাগুলিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বদলাচ্ছে মার্কিন-পাক সম্পর্কের সমীকরণ
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যে মার্কিন-পাক সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তা অনেকটাই বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানও অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা করেছে এবং এমনকি তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলেও উল্লেখ করেছে।
যদিও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান ‘নন-ন্যাটো মিত্র’, অন্যদিকে আফগান তালিবানকে এখনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবেই দেখে ওয়াশিংটন।