কংগ্রেসে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, তিনি হস্তক্ষেপ না করলে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বেধে যেতে পারত। মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর দিকে গড়াচ্ছিল।

জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের ভিতরে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা করে।
শেষ আপডেট: 25 February 2026 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফের দাবি করেন যে, ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটানোর কৃতিত্ব তাঁরই। কংগ্রেসে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, তিনি হস্তক্ষেপ না করলে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বেধে যেতে পারত। মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর দিকে গড়াচ্ছিল। “ভারত আর পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত,” বলেন তিনি। আরও দাবি করেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, আমি না থাকলে সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা যেত।”
২০২৫-এর মে মাসে সংঘাতের পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ভারত–পাক উত্তেজনা থামাতে তিনিই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য চুক্তি আর শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারিকে হাতিয়ার করেই তিনি দুই দেশকে চাপ দেন, যাতে তারা সংঘাত না বাড়ায়। তবে নয়াদিল্লি এই দাবি মানেনি। ট্রাম্প যে ঘটনার কথা বলছেন, তা শুরু হয়েছিল গত বছরের ২২ এপ্রিল পহলগামে জঙ্গি হামলার পর। সেই হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষ মারা যান। তার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের ভিতরে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা করে।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প একই দাবি করেন। তাঁর এক শান্তি সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত আর পাকিস্তানকে ফোন করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নিজেদের মধ্যে সমস্যা না মেটালে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের কথায়, “আমি বলেছিলাম, তোমরা যদি এটা না মেটাও, তাহলে আমি কোনও বাণিজ্য চুক্তি করব না। যদি লড়াই করো, তবে তোমাদের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব।” এরপরই নাকি সমঝোতা হয়ে যায়।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প আশিরও বেশি বার বলেছেন, ভারত–পাক সংঘাত থামাতে তাঁরই ভূমিকা ছিল। সংঘর্ষের সময় কতগুলো যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল, তা নিয়েও তিনি আলাদা আলাদা সংখ্যা বলেছেন। তবে কোন দেশের বিমান নিয়ে তিনি কথা বলছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি। এদিকে নয়াদিল্লির বক্তব্য, ১০ মে যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছিল, তা ভারত আর পাকিস্তানের সরাসরি আলোচনার ফল। এতে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না।