ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ। আর পোস্ট হওয়ার পর থেকেই ভাইরাল সেই দৃশ্য। তবে এনিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্কও।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 21 July 2025 09:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শিরোনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার নিশানায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে ওবামা প্রশাসনের দিকে আঙুল তোলার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প শেয়ার করলেন একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে, ওভাল অফিসের ভিতরে ওবামাকে গ্রেফতার করছে এফবিআই।
ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ। আর পোস্ট হওয়ার পর থেকেই ভাইরাল সেই দৃশ্য। তবে এনিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্কও। সমালোচকদের একাংশ এই ভিডিওকে 'উস্কানিমূলক' বলে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ একে 'এপস্টিন ফাইলস'-এর বিতর্ক থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল বলেও দাবি করছেন।
ভিডিওটি শুরু হয় ওবামার একটি বক্তব্য দিয়ে, 'আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, প্রেসিডেন্টও না।' তারপর একের পর এক ডেমোক্র্যাট নেতা, এমনকি জো বাইডেনকেও একই বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। পরবর্তী দৃশ্যে আসে ‘পেপে দ্য ফ্রগ’-এর জোকার রূপে একটি মিম, যা ডেমোক্র্যাটদের মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
এরপরই আসে মূল চমক। দেখা যায়, হোয়াইট হাউসের ভিতরে ওভাল অফিসে ওবামাকে এফবিআই-এর আধিকারিকেরা হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করছে। পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ট্রাম্প, মুখে রহস্যময় হাসি। মুহূর্তের মধ্যেই দৃশ্য বদলে যায়, এবার ওবামা হাজতের কমলা পোশাকে কারাগারের পিছনে।
ভিডিওটির ক্যাপশনেই লেখা, 'আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।' তবে স্পষ্ট, এটি একটি ডিপফেক বা এআই-নির্ভর ভিডিও। তা সত্ত্বেও এর রাজনীতিক তাৎপর্য ও বিতর্ক কোনওভাবেই কম নয়।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গ্যাবার্ড ওবামার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়কে খাটো করার জন্য ওবামার প্রশাসন রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট ‘মনগড়া’ভাবে তৈরি করেছিল এবং তাতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল। গ্যাবার্ডের কথায়, 'ডিক্লাসিফায়েড নথিপত্রে স্পষ্ট, ওবামার শাসনকালীন কিছু শীর্ষ আধিকারিক গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন।'
এই সব অভিযোগ, তার সঙ্গে এই ভিডিও, সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও ওবামার পুরনো দ্বন্দ্ব যে ফের প্রকাশ্যে এল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই ধরনের কৃত্রিম ভিডিও ব্যবহার করে প্রচার চালানো নিয়ে আমজনতার মধ্যে যেমন বিভ্রান্তি বাড়ছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রযুক্তির এহেন অপব্যবহার ভবিষ্যতে কোন দিক নিয়ে যেতে পারে মার্কিন গণতন্ত্রকে।