নাম না করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনিরকে ঠুঁটো বলতে কসুর করল না সেদেশের সারেজলে পুষ্ট কট্টর মৌলবাদী সংগঠন ও তার মোল্লারা।

জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর প্রধান ফজলুর রহমান ও ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনিরের মূল ছবির সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি করা চিত্র।
শেষ আপডেট: 10 February 2026 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষার হাতেনাতে ফল পেল পাকিস্তান। নাম না করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনিরকে ঠুঁটো বলতে কসুর করল না সেদেশের সারেজলে পুষ্ট কট্টর মৌলবাদী সংগঠন ও তার মোল্লারা।পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে তীব্র কটাক্ষ করেন দেশের প্রভাবশালী ইসলামপন্থী নেতা মৌলানা ফজলুর রহমান। রবিবার রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে “একটা আনারদানা ঢুকতে পারে না, অথচ যেভাবেই হোক জঙ্গিরা ঠিকই ঢুকে পড়ে।”
কট্টর মৌলবাদী সংগঠন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, বারবার দাবি করা হচ্ছে জঙ্গিরা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে ঢুকছে। কিন্তু যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে তাদের থামানো হচ্ছে না কেন? তাদের আটকান, নিকেশ করুন। আফগান সরকার কখনও এতে আপত্তি করেনি, দাবি ফজলুরের।
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আফগান নীতিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, জাহির শাহ থেকে শুরু করে আজকের এমিরেট-ই-ইসলামিয়া— কেউই পাকিস্তানের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারল না। কখনও কমিউনিস্ট সরকার, কখনও জেহাদি শাসন, কখনও তালিবান, কখনও তথাকথিত পাকপন্থী সরকার এসেছে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, কেন গত ৭৮ বছর ধরে আমাদের আফগান নীতি ব্যর্থ?
শুধু নিরাপত্তা নয়, পাকিস্তানের সামগ্রিক বিদেশনীতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি, আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা, চিন অসন্তুষ্ট, ইরানও বিরক্ত। এই অবস্থায় তারা ভাবছে দেশের হয়ে যুদ্ধ লড়ছে! বাস্তবে তারা শুধু পাকিস্তানকে ধ্বংস করছে।
ফজলুর রহমানের এই মন্তব্য আসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে। ওই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৭০ জনের বেশি আহত হন। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে মসজিদের গেটে গুলি চালায়, পরে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে খাজিদা তুল কুবরা ইমামবরগা প্রাঙ্গণে ঢুকে নিজেকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
পাকিস্তানের মূলধারার রাজনীতিতে বিরল হলেও, ফজলুর রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্ট— দেশের ভেতর থেকেই সেনা নিয়ন্ত্রিত সুরক্ষা ব্যবস্থা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। জঙ্গি সমস্যা মোকাবিলায় সীমান্ত কড়াকড়ির দাবি আর বাস্তবতার ফারাকই তুলে ধরেছে তাঁর আনারদানার দৃষ্টান্ত।