অপরাধ বা গোয়েন্দা রহস্য কাহিনির সিনেমায় সচরাচর যা দেখা যায়, তাই দেখা গেল উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের শেষে।

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠক শেষে।
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপরাধ বা গোয়েন্দা রহস্য কাহিনির সিনেমায় সচরাচর যা দেখা যায়, তাই দেখা গেল উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের শেষে। চিনের আমন্ত্রণে বেজিংয়ে এসে দুই রাষ্ট্রনেতা দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। তারপরেই দেখা যায় এই রহস্য-রোমাঞ্চ ঘেরা এই দৃশ্য। একটি ‘শিখর বৈঠকের’ পর যা হওয়ার নয়, তাই ঘটল বেজিংয়ের মাটিতে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি কর্মীরা বৈঠকঘরের যাবতীয় কিছু রাসায়নিক দিয়ে ধুয়েমুছে সাফ করে দিলেন।
জানা গিয়েছে, কিম জং উন ওই ঘরে পুতিনের সঙ্গে শলাপরামর্শের ফাঁকে যা কিছুতে স্পর্শ করেছেন, সেখান থেকে তাঁর ডিএনএ রাসায়নিক দিয়ে ধৌতিকরণ করেছে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মীরা। বুধবার এই ছবি দেখে সকলে তাজ্জব বনে গিয়েছেন। টেলিগ্রামে পোস্ট হওয়া এই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কিমের দুই কর্মী বৈঠক শেষে তড়িৎগতিতে ঘরে ঢুকে পড়লেন।
তাঁরা সেখানে ঢুকেই তৎপরতার সঙ্গে সবকিছু মুছতে শুরু করেন। একজনকে দেখা গিয়েছে কিম যে চেয়ারে বসেছিলেন তার পিঠে হেলান দেওয়ার জায়গাটি ঘষে ঘষে পরিষ্কার করছেন। অন্যজন ফরেন্সিক তদন্তকারীর মতো জলের গ্লাস ও ট্রে সাফ করতে লেগেছেন। কিমের কর্মীরা ঘরে তাঁর উপস্থিতির জানান দেয়, এমন সব কিছু পরিষ্কার করে ফেলেন বিদ্যুৎ গতিতে। যাতে কিমের কোনও ডিএনএ-র সন্ধান মেলে ওই ঘর থেকে।
কিম যেসব আসবাব যেমন টেবিল, ফুলদানিতে স্পর্শ করে থাকতে পারেন, সেসব থেকে সমস্ত প্রমাণ লোপাট করে ফেলেন তাঁর কর্মচারীরা। চেয়ারের হাতল থেকে সাইড টেবিল সবকিছু থেকে কিমের স্পর্শের প্রমাণ তুলে ফেলেন তাঁরা। এক রুশ সাংবাদিক জানান, পুতিন-কিম বৈঠকটি খুবই ইতিবাচক হয়েছে। দুই রাষ্ট্রনেতাই আলোচনার পর খুব তৃপ্তি ও হাসিমুখে চা-পান করেন।
যদিও উত্তর কোরিয়ার শাসকের ফরেন্সিক স্তরের ধোয়ামোছার কারণের সরকারি কোনও জবাব মেলেনি। অনুমান যে, রাশিয়ার দুরন্ত গোয়েন্দা বাহিনীর হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্যই এই তৎপরতা ছিল। অন্যদের মতে, চিনের গুপ্তচর সংস্থার হাত এড়াতে এই কাজ করা হয়েছে।
যদিও কিমের থেকেও এককাঠি উপরে ভ্লাদিমির পুতিন। কারণ, পুতিনের নিরাপত্তা বাহিনী ডিএনএ চুরি রুখতে এর থেকেও সূক্ষ্ম পদক্ষেপ করে থাকে। যার মধ্যে একটি হল পুতিনের সমস্ত বর্জ্য ব্যাগে ভরে মস্কো পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। গত মাসে আলাস্কায় পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের সময়েই এই খবর সামনে আসে। সংবাদমাধ্যমের খবর হল, এ ধরনের উচ্চগ্রামের এক মহোৎসবের বিপরীত ছবিটি হল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক দেহরক্ষীর হাতে থাকা একটি স্যুটকেস (Poop Suitcase)। এটা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, কী সেটা! কী রহস্য রয়েছে স্যুটকেসের ভিতরে! না, কোনও কূটনৈতিক গোপন দলিল-দস্তাবেজ নয়। নয় কোনও মারণাস্ত্র। সেই বাক্সটি হল, পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ করা এবং সেগুলি ফের মস্কো পর্যন্ত ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাগেজ।
পুতিনের সফরকালীন রুটিনেই থাকে এই আশ্চর্য বাক্স। আলাস্কা শান্তিচুক্তি বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পুতিনের বডিগার্ড এরকমই একটি স্যুটকেস বয়ে নিয়ে এসেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা প্রটোকলের মধ্যেই পড়ে। এই ভাবনার মূলে রয়েছে, রুশ রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তাঁর মলের নমুনা পরীক্ষা করে যাতে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের অসুখবিসুখ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে না আসতে পারে।