কমিউনিস্ট ‘স্বৈরাচারী’ দেশের ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ দলের প্রধান কিম ও সরকারের সমস্ত কাজ চলে অত্যন্ত গোপনে। পরমাণু অস্ত্রধর এই দেশকে আমেরিকা সহ অধিকাংশ পশ্চিমী রাষ্ট্র একঘরে করে রেখেছে।

কিম জং উনের কন্যা (বাঁদিকে) ও বোন (ডানদিকে)।
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনে আসা উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের (Kim Jong Un, Supreme Leader of North Korea) সঙ্গে দেখা গেল দুই ‘রহস্যময়ী’কে। আর এই দুজনকে নিয়েও ইতিমধ্যে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে চতুর্দিকে। কমিউনিস্ট ‘স্বৈরাচারী’ দেশের ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ দলের প্রধান কিম ও সরকারের সমস্ত কাজ চলে অত্যন্ত গোপনে। পরমাণু অস্ত্রধর এই দেশকে আমেরিকা সহ অধিকাংশ পশ্চিমী রাষ্ট্র একঘরে করে রেখেছে। কিন্তু, দক্ষিণ কোরিয়ার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা কিমের সঙ্গে দুই রহস্যময়ীকে দেখে তাঁর সিংহাসনের উত্তরসূরি কে হবেন (Who Is North Korea's next Supreme Leader), তা নিয়ে ফিসফিসানি শুরু হয়ে গিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর চলতি চিন সফরে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কিশোরী কন্যাকে (Kim Jong Un's Daughter Kim Ju-Ae)। উল্লেখ্য, কিমের কন্যা সম্পর্কে বিশ্ব সংবাদ মহল খুব সামান্যই জানলেও এটাই তাঁর প্রথম দেশের বাইরে কূটনৈতিক সফর। সে কারণে গুঞ্জনের শব্দ জোরাল হয়ে উঠেছে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, এই কন্যাই হতে চলেছেন কিমের উত্তরসূরি (North Korea's next Supreme Leader)। যদিও পরমাণু অস্ত্রধর উত্তর কোরিয়ার বংশপরম্পার শাসনে পুরুষতান্ত্রিকতারই ধারাবাহিকতা প্রবহমান।
লুকোচুপির রাজা উত্তর কোরিয়া কোনওদিনই কিম-কন্যার নাম ও বয়স প্রকাশ্যে আনেনি। কিন্তু, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা মনে করে, এই মেয়ের সম্পর্কে প্রথম তথ্য ফাঁস করেন প্রাক্তন মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডেনিস রডম্যান। যিনি জানান, কিমের মেয়ের নাম জু আয়ি (Kim Ju-Ae)। রডম্যান ২০১৩ সালে কিমের পরিবারের সঙ্গে কিছুকাল ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তখন জু শিশু ছিলেন বলে তিনি তথ্য ফাঁস করেছিলেন।
চিনে নিজের সাততারা বিলাসবহুল ‘চলমান দুর্গ’ গ্রিন ট্রেনে চেপে পৌঁছনোর পর, কামরা থেকে কিমের সঙ্গেই নামতে দেখা গিয়েছে জু-কে। চিনা স্বাগতদলের সঙ্গে করমর্দনের সময় কিমের ঠিক পিছনেই তাঁকে দেখা গিয়েছে। এমনকী চিনের বিশাল কুচকাওয়াজের পর দুপুরের ভোজসভাতেও কিমের পাশেই ছিলেন তাঁর আদরের মেয়ে। আমেরিকা এই নিয়েই বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গোয়েবলস থিওরি অনুসরণ করে প্রচারে নেমে পড়েছে। সেদেশের স্টিমসন সেন্টারের উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল ম্যাডেন বলেন, ঠিক এই মুহূর্তে জু আয়ি হলেন উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডারের উত্তরসূরির দৌড়ে সামনের সারিতে। তাঁকে নিয়ে এসে কিম বৈদেশিক প্রটোকলের হাতেকলমে তালিম দিচ্ছেন। যা ভবিষ্যতে কন্যার শাসনভার অর্জন ও শীর্ষস্তরীয় পদে বসার সহায়ক হবে।
বাবার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাইরের কোনও দেশে ভ্রমণের এই প্রথম অভিজ্ঞতা পেলেন মেয়ে। যে সৌভাগ্য তাঁর বাবা কিম জং উন কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পিসির কপালেও ঘটেনি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিম জং উনকে নিয়ে কোনওদিন তাঁর বাবা কিম জং ইল বিদেশ সফর করেননি। যদিও কিমের বাবা, উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের সঙ্গে ১৯৫০ সালে বিদেশে গিয়েছিলেন।
কিম-কন্যার প্রথম প্রকাশ্য ছবি দেখা যায় ২০২২ সালে। যেখানে উত্তর কোরিয়া বিশাল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা যায় জু আয়িকে, বাবার পাশে বসে থাকতে। যদিও কিমের অন্য কোনও সন্তান আছে কিনা তা এখনও কেউ জানে না। এখন কিম-কন্যার বয়স ধরা হয় আনুমানিক ১৩ বছর। ইদানীং তিনি বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক উচ্চস্তরীয় অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বাবার সঙ্গে। গত মে মাসেই রুশ দূতাবাসের এক অনুষ্ঠানে তাঁর দর্শন মেলে।
চিনের ভোজসভায় আরও এক রহস্যময়ী ও বহুচর্চিত উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার নিউক্লিয়াস কিম জং উনের বোনকেও (Kim Jong Un's Sister Kim Yo Jong) দেখা গিয়েছে। সংবাদ সংস্থাগুলির ছবিতে কিমের বকলমা শক্তির উৎস বোন কিম উও জং-কে দেখা গিয়েছে। তাঁর যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে, কিম উও জং (Kim Yo Jong) এক বিশাল ব্যাঙ্কোয়েট হলে একটি টেবিলে বসে রয়েছেন।
মাথায় পাতা চুলের কপালের বাঁদিক ঢেকে রয়েছে লকস। ব্রহ্মতালুর কাছে একটি রুপোলি কাজ করা হেয়ারব্যান্ড লাগানো। সাদা ব্লাউজের উপরে কালো পাম জ্যাকেট। জ্যাকেটের ডানদিকে একটি ছোট্ট সোনার পিন সাঁটা। যাতে কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা। আর ডানদিকে একদলীয় শাসনের উত্তর কোরিয়ার প্রতীক চিহ্ন বসানো রয়েছে। কিম উও জংকে উত্তর কোরিয়ার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মনে করেন অনেকেই। শাসক কিমের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন বোন প্রশাসনকে অঙ্গুলি হেলনে চালান। তাঁরা দুজনেই সুইৎজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন।
২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশে বসে নজর কেড়ে নিয়েছিলেন। অনেকে তাঁকে উত্তর কোরিয়ার ইভাঙ্কা ট্রাম্প বলেও মন্তব্য করে। কিম উও জং ২০২১ সাল থেকে দেশের নীতি রূপায়ক কমিটির সদস্য করা হয়। তিনিই দেশের বিদেশ বিষয়ক জনবিবৃতি দিয়ে থাকেন।