দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৮০-তম বার্ষিকী পালনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জন উনের সহাবস্থানে একেবারে ভেঙে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার সকালে চিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি শক্তির আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশাল কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছিল।
শেষ আপডেট: 3 September 2025 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৮০-তম বার্ষিকী পালনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জন উনের সহাবস্থানে একেবারে ভেঙে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই হতাশা থেকেই বেরিয়ে পড়েছে ক্ষোভ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শিবিরের জয়ের কৃতিত্ব চিন-রাশিয়ার মতো কমিউনিস্ট দেশগুলি হাতিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কার্যতই দুমড়ে গিয়েছে এতকাল বিজয় মুকুট মাথায় দিয়ে বসে থাকা আমেরিকা। ট্রাম্পের সরাসরি অভিযোগ, এই ত্রিশক্তি মিলে আমেরিকার বিরুদ্ধে চক্রান্ত কষছে। আর সে কারণেই চিনের সর্বকালের বৃহত্তম লালফৌজের কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। এসবই আমেরিকার বিরুদ্ধ চক্রান্ত।
শুল্কনীতি নিয়ে চিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে ওয়াশিংটনের। অন্যদিকে, প্রায় গত তিন বছর ধরে মার্কিন-পোষ্য ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক চটে রয়েছে ট্রাম্পের। তৃতীয় শক্তি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বরাবরই সম্পর্ক খারাপ আমেরিকার। ‘স্বৈরাচারী শাসক’ কিম নামে কমিউনিস্ট হলেও তারা পরমাণু শক্তিধর বলে পশ্চিমী দুনিয়ার বিশ্বাস। সব মিলিয়ে রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়ার বন্ধুত্ব গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের। বিশেষত তিনি বুঝতে পারছেন যে, তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বাগানে এখন অনেকেই পেরেক পুঁতে রাখতে চলেছে।
বুধবার সকালে চিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি শক্তির আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশাল কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছিল। সেখানে এই প্রথমবার লালফৌজের মূল ক্ষমতার একচিলতে শক্তিরও যে প্রদর্শন করেছে, তাতেই মেজাজ বিগড়ে গিয়েছে ট্রাম্পের। কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন শি জিনপিং, পুতিন ও কিম। এই ত্রিশক্তিকে মঞ্চের মাঝখানে রেখে লালফৌজ এগিয়ে চলে। সেখানে সাঁজোয়া গাড়ি, ড্রোন এবং নতুন পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র দেখানো হয়। চিনা বিমানবহরের কেরামতিও প্রত্যক্ষ করে দুনিয়া।
অনুষ্ঠানের সূচনাতেই শি প্রচ্ছন্ন ভাষায় আমেরিকাকে উদ্দেশ করে বলেন, ইতিহাসের সত্য উন্মোচনে চিন দৃঢ় বিশ্বাসী। একইসঙ্গে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, কোনও গুন্ডার ধমকানি-চমকানিতে ভয় পায় না। আমেরিকা ও পশ্চিমী দুনিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আজ মানুষকে বেছে নিতে হবে, তারা শান্তি না যুদ্ধ চায়।
এই উৎসব পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে দয়া করে আমার উষ্ণ আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আপনারা সকলে মিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। যদিও ট্রাম্প এর আগে চিন-রাশিয়ার গলাগলিকে বিশ্ব দরবারে আমেরিকার পক্ষে ভীতিজনক নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ত্রিশক্তির মিলন দেখে ট্রাম্প মনে মনে ভয় পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রাম্প আরও লিখেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি আগ্রাসনের হাত থেকে চিনকে রক্ষা করেছিল আমেরিকা। শুধু অর্থ দিয়ে নয়, চিনকে জাপানি আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে রক্ত ঝরিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।