ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ফের মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বহু বছর ধরে সম্পর্ক ছিল একতরফা। ভারত চাপাত প্রবল শুল্ক, যার জেরে ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার।

ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 3 September 2025 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফের সরব হলেন ভারতের বাণিজ্য নীতি নিয়ে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ‘আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক এখন ভাল হলেও বহু বছর আগে সেটা একপেশে ছিল। কারণ ভারত আমেরিকান পণ্যের উপর বিরাট অঙ্কের শুল্ক চাপাত।’
ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে আমেরিকার। এদিকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে ভারত। তাই শাস্তি বাবদ ভারতকে চড়া শুল্ক চাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত মাস থেকে যা কার্যকরও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চাপানউতর চলছে। ভারত-আমেরিকার বন্ধুত্বপূর্ণসম্পর্ক প্রশ্নের মুখে।
মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল। কিন্তু আগে সেটা একপেশে ছিল। আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বদলেছে।’
ট্রাম্পের দাবি, ‘ভারত আমাদের উপর অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক ধার্য করত। ফলে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে ব্যবসা তেমন করত না। কিন্তু ভারত আমেরিকার বাজারে নিজেদের পণ্য দিত। আমরা তখন শুল্ক নিতাম না। খুবই বোকামি করতাম। ওরা ব্যবসা করত, আমরা করতে পারতাম না।’
উদাহরণ হিসেবে ট্রাম্প একটি বাইক কম্পানির কথা টানেন। বলেন, ‘হার্লে-ডেভিডসন ভারতে মোটরবাইক বিক্রি করতে পারত না। কারণ একেকটি বাইকের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হত। তাই কী হল? হার্লে-ডেভিডসন ভারতে গিয়ে কারখানা বানাল। সেখানে মোটরবাইক তৈরি করছে। ফলে আর শুল্ক দিতে হচ্ছে না। আমাদেরও একই কাজ করতে হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ‘ভারত নিজেদের পণ্য সহজেই আমেরিকার বাজারে বিক্রি করত। কিন্তু আমেরিকার পণ্য ভারতে ঢুকতে পারত না। কারণ শুল্ক এত বেশি ছিল যে ব্যবসা করা সম্ভব হত না।’
ভারতের উপর শুল্ক হ্রাসের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা এই কথোপকথন থেকে জানা যায়নি। তবে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েই যে তাঁর মূলত আপত্তি, তা এখানে জলের মতো পরিষ্কার।