আবারও ভারতকে নিশানা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, দিল্লির সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বহুদিন ধরেই ‘‘একতরফা বিপর্যয়’’।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 1 September 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও ভারতকে নিশানা ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President Donald Trump) সোমবার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, দিল্লির সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বহুদিন ধরেই ‘‘একতরফা বিপর্যয়’’। তাঁর দাবি, ভারত (India) নাকি এখন শুল্ক শূন্যে নামাতে রাজি হয়েছে, কিন্তু ‘‘এখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে’’।
সম্প্রতি ভারত-আমেরিকা (India USA) সম্পর্ক ক্রমশই তলানিতে ঠেকেছে। রুশ তেল (Russian Oil) কেনার জেরে ভারতীয় আমদানির উপর ট্রাম্পের চাপানো ৫০ শতাংশ শুল্ক (Tariff), আর তার পরেই বাণিজ্য-আলোচনায় অচলাবস্থা। এর মধ্যেই চিনের তিয়ানজিনে সঙ্ঘাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে গিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিন নেতার সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “ভারতের কাছে আমরা বিশাল বাজার। ওরা আমাদের কাছে বিপুল পণ্য বিক্রি করে, অথচ আমরা ভারতে কিছুই বিক্রি করতে পারি না। উচ্চ শুল্কের জন্য এতদিন ব্যবসা করা সম্ভব হয়নি। এ একেবারেই একতরফা সম্পর্ক।’’ পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ— ভারত তেল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় অংশ রাশিয়া থেকে কেনে, আমেরিকা থেকে প্রায় কিছুই নেয় না।
ভারত অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনা সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কারণে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশের মোট তেলের প্রয়োজনের প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে মস্কো থেকে। দিল্লির বক্তব্য, এ নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের আলাদা করে চাপ দেওয়া অন্যায্য।
ইতিমধ্যেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য নিয়ে টানা পাঁচ দফা আলোচনা হলেও ষষ্ঠ দফা বৈঠক বাতিল হয়ে গিয়েছে। বিশেষত কৃষি ও পশুপালন খাতে প্রবেশাধিকার দেওয়া নিয়ে বড় মতভেদ রয়ে গিয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
ট্রাম্পের বাড়তি শুল্কে ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি। অন্যদিকে মোদী, পুতিন ও শি-র ঘনিষ্ঠতায় এশিয়ার নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন কূটনৈতিক মহল। তিয়ানজিনে তিন নেতার পাশাপাশি হাঁটা ও হাসিমুখে আলাপচারিতা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— ওয়াশিংটনের চাপের মুখেও নিজেদের শক্তিকে একত্রিত করতে চাইছে ভারত, রাশিয়া ও চিন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বাণিজ্যনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত জানিয়েছে, ট্রাম্প জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশের উপরে শুল্ক বা ট্যারিফ (Tariff) আরোপ করেছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও আদালত আপাতত এই ট্যারিফগুলি বহাল রেখেছে, যাতে হোয়াইট হাউসের হাতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকে।