মার্কিন সমরবহর সম্পর্কে যে অলীক ধারণা মানুষের মনে (বিশেষত ভারতীয়দের) ছিল, সেই আবছায়া দূর করে দিয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বেসর্বা শি জিনপিং।

বুধবার সকালে বেজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে কুচকাওয়াজের সূচনায় ভাষণ দিচ্ছেন চিনের প্রসিডেন্ট শি জিনপিং।
শেষ আপডেট: 3 September 2025 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব রাজনীতির সিরিয়ালে ‘শক্তিমান’ বলে খ্যাত আমেরিকার নাকে বুধবার ঝামা ঘষে দিয়েছে চিন। মার্কিন সমরবহর সম্পর্কে যে অলীক ধারণা মানুষের মনে (বিশেষত ভারতীয়দের) ছিল, সেই আবছায়া দূর করে দিয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বেসর্বা শি জিনপিং। এদিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৮০-তম বর্ষপূর্তিতে চিনের ‘কুখ্যাত’ তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছিল, তাতে রেড আর্মি বা লালফৌজের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অস্ত্র-ওয়ার্ডরোবের শোকেস দেখেই তাজ্জব হয়ে গিয়েছে পশ্চিমী দুনিয়া। বুঝে গিয়েছে, বেজিংয়ের গুদামে তো মজুত আছেই আরও বহু গোপন ম্যাজিক।
চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) এ ধরনের অস্ত্রভাণ্ডারের কুচকাওয়াজ খুবই বিরল। চিন সম্পর্কে যে অজ্ঞাত ধারণা ছিল, তা দূর করে এদিন বিশ্ববাসীকে সেনাবহর ও অস্ত্রশস্ত্রের একাংশ নমুনা প্রদর্শন করেই আমেরিকার চোখ চড়কগাছে তুলে দিয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ। এখানে চিনের প্রদর্শিত কিছু অস্ত্রশস্ত্রে সুলুক সন্ধান দেওয়া হল।
চিন এদিন পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল (ICBM) বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের জন্য সামনে নিয়ে এল। এই ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্র, ভূমি ও আকাশ থেকে একসঙ্গে ছোড়া যায়। এই প্রথম ‘ত্রিনাথ’ ক্ষমতাধর ‘ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত’ পরমাণু অস্ত্র প্রকাশ্যে নিয়ে এল চিন। যার মধ্যে রয়েছে- আকাশ থেকে ছোড়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র জিংলেই-১, ডুবোজাহাজ থেকে হামলা চালানোয় সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র জিংলেই-৩ এবং ভূমি থেকে ছোড়ার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ডংফেং-৬১ (DF-61) ও ডংফেং-৩১।
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া লিখেছে, এসব অস্ত্র দেশের সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মানের রক্ষাকবচ।
ডংফেং-৫সি (DF-5C) হল ১৯৭০ সালে শুরু হওয়া চিনের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সাম্প্রতিকতম সংস্করণ। একটিমাত্র নির্দিষ্ট নিশানায় তরল জ্বালানির এই ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে বহু ও নানান রকমের অস্ত্রবর্ষণে সক্ষম।
প্যারেডে ছিল শব্দের থেকে পাঁচগুণ বেশি গতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র। এর মধ্যে ছিল- য়িংজি-১৯, য়িংজি-১৭ ও য়িংজি-২০। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হল- ছ্যাংজিয়ান-২০এ, য়িংজি-১৮সি, ছ্যাংজিয়ান-১০০০ এবং হাইপারসনিক য়িংজি-২১, ডংফেং-১৭ ও ডংফেং-২৬ডি। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের মতে, এগুলির প্রত্যেকটি শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষাকালের উপযোগী যুদ্ধাস্ত্র।
অত্যাধুনিক যুদ্ধে মানবহীন আকাশহানায় ড্রোনের কার্যকারিতা বহু গুণে বেড়ে গিয়েছে। ড্রোন হামলা রুখতে চিন বেশ কিছু লেজার অস্ত্র তৈরি করেছে। এই কুচকাওয়াজে সেই ড্রোন ধ্বংসী ব্যবস্থার আপাদমস্তক ক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মিসাইল গান, হাই এনার্জি লেজার অস্ত্র এবং হাইপাওয়ার মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র। এই সামগ্রিক ব্যবস্থা আকাশ, ভূমি ও নৌশক্তি অর্থাৎ ত্রিফলা ক্ষমতাসম্পন্ন।
চিন আকাশ ও জলের নীচে চালানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন সামনে নিয়ে এসেছে এদিন। এছাড়া আক্রমণকারী ও শত্রুনিকেশে সক্ষম ড্রোনেরও প্রদর্শনী করেছে। জাহাজ থেকে উৎক্ষিপ্ত চালকহীন হেলিকপ্টার দেখে সম্পূর্ণ অবাক হয়ে গিয়েছে বিশ্ব। এছাড়াও বিরাট নৌবহরের ক্ষমতা, যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ এবং মাইন পোঁতার ব্যবস্থাও দেখিয়েছেন শি জিনপিং।