শুধু সফরের ঘোষণাই নয়, সফরসূচিও প্রকাশ করে ফেলে কোনও কোনও মিডিয়া। মজার বিষয় হল, গতকাল থেকে পাক মিডিয়া ক্ষমা চাওয়ার ঢল নেমেছে।

শেষ আপডেট: 18 July 2025 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States), সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) সঙ্গে তাদের অন্তরঙ্গ কূটনৈতিক (close diplomatic ties) সম্পর্ক রয়েছে, বারে বারে দাবি করে থাকে পাকিস্তান। পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam attack) পর ইসলামাবাদ বিশ্বব্যাপী প্রচার করছে, ওই ঘটনায় মার্কিন প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানকে দোষারোপ করা হয়নি।
একাধিক সূত্রের খবর, পাক প্রশাসনের প্রোপাগান্ডার অংশ হিসাবে সে দেশের মিডিয়ার বড় অংশ আমেরিকা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা ফলাও করে প্রচার করে আসছিল। চলতি সপ্তাহে তেমনই একটি খবর ছিল, সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ সফর করবেন ট্রাম্প।
শুধু সফরের ঘোষণাই নয়, সফরসূচিও প্রকাশ করে ফেলে কোনও কোনও মিডিয়া। মজার বিষয় হল, গতকাল থেকে পাক মিডিয়া ক্ষমা চাওয়ার ঢল নেমেছে। খবরের কাগজ, টেলিভিশন চ্যানেলে বলা হচ্ছে, বড় ভুল হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের খবরটি ভুল ছিল। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।
এর আগে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব ক্যারোলিনা লিভিত সাংবাদিক বৈঠকে নিজে থেকেই জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাকিস্তান সফরের খবর ‘ফেক।’ সেপ্টেম্বরে তাঁপ পাকিস্তান যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ওইমাসে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হল ব্রিটেন সফর। তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ব্রিটেনের রাজার সঙ্গে দেখা করবেন। ইউএস-ইউকে বাণিজ্য চুক্তির ইতিবাচক রূপ দেওয়া হবে সফরে। তার আগে এ মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডে থাকবেন ট্রাম্প। প্রেস সচিব আরও জানিয়েছেন, চলতি বছর তো নয়ই, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফরের বিষয়ে আলোচনাও শুরু হয়নি।
পাকিস্তানি মিডিয়া কেন ট্রাম্পের সফর নিয়ে মাতামাতি শুরু করেছিল সে বিষয়ে একাধিক সূত্র থেকে নানা খবর আসছে। জানা যাচ্ছে, এর সঙ্গে ইসলামাবাদের নয়াদিল্লি অঙ্ক যেমন আছে, তেমনই আছে ঘরোয়া সমীকরণ। পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের জেরে কোণঠাসা শাহবাজ শরিফের সরকার দেখাতে উদগ্রীব স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেশ সফরে আসতে আগ্রহী। শাহবাজ সম্প্রতি ওয়াশিংটনে পাক দূতাবাস মারফত ট্রাম্পকে ইসলামাবাদ সফরে আসার আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঘরোয়া সমীকরণ হল সেনা প্রধান আসিম মুনির। দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুনিরকে হোয়াইট হাউসে ডেকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁকে লাঞ্চও খাইয়েছেন। প্রকাশ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া না দিলেও যে কোনও সরকারের কাছে একটা অবমাননাকর বলেই মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সফর শেষে দেশে ফিরে মুনিরকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। প্রচার আছে সেনা প্রধানের পদ থেকে অবসরের পর তিনি হবেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টোর পিতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজিক ভুট্টোর স্বামী। স্বভাবতই জারদারিকে মুখের কথায় সরিয়ে দেওয়াও সহজ নয়।