ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (India-USA Trade Deal) মধ্যে এই চুক্তির মূল লক্ষ্যই হল পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশের নীচে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যেই দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা চলছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 July 2025 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একপ্রকার অনিশ্চয়তা রয়েছে। এবার এনিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শীঘ্রই এই চুক্তি সাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আমেরিকান সংস্থাগুলি ভারতের বাজারে আরও বড় সুযোগ পাবে, ঠিক যেমন হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর।
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (India-USA Trade Deal) মধ্যে এই চুক্তির মূল লক্ষ্যই হল পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশের নীচে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যেই দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা চলছে।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটা বাণিজ্য চুক্তি করেছি। এখন ওদের বাজারে আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার রয়েছে।' 'ভারতের ক্ষেত্রেও তেমনই একটা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ভারতও একই পথে এগোচ্ছে। ওদের বাজারেও আমরা প্রবেশাধিকার পেতে চলেছি,' বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে চলা পারস্পরিক শুল্কহার (reciprocal tariff) সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। ভারত আশাবাদী, এই সময়ের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হলে এই অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কোনও বাণিজ্য চুক্তিতেই তাড়াহুড়ো করে সই করবে না। চলতি মাসের শুরুতেই বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, 'ভারত কখনও সময়সীমা দেখে চুক্তি স্বাক্ষর করে না। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিটি পুরোপুরি চূড়ান্ত, যথাযথ এবং দেশের স্বার্থে উপযুক্ত হলে তবেই ভারত তা মেনে নেবে।' বর্তমানে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয় হল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে আমেরিকার দাবি। তারা চাইছে, এই দুই ক্ষেত্রে ভারত শুল্কতে ছাড় দিক। কিন্তু দিল্লিও জানিয়ে দিয়েছে, এতদিন তারা কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে দুগ্ধখাতে শুল্কছাড় দেয়নি, এবারও দেবে না।
ভারতের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবিও জানানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, ২৬ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ৫০ শতাংশ এবং গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক কমাতে হবে।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কিছু দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেন। পরে তা ৯ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। আবার সময়সীমা বাড়িয়ে তা ১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ভারতে জন্য নতুন শুল্ক কাঠামো বরাদ্দ হতে পারে।
তবে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি খুব শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং এটি কার্যকর হবে। যদিও ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থ সবচেয়ে আগে আর সেই স্বার্থ রক্ষায় তারা কোনও তাড়াহুড়ো করবে না। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের অবস্থান কোথায় গিয়ে মেলে এবং চুক্তি কার্যকর হয় কি না।