প্রখ্যাত ফিজিওলজিস্ট উইলিয়াম শেলভামূর্তি জানান, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় শরীরে প্রথম ধাক্কা খায় হৃদযন্ত্র। রক্ত উপরের দিকে উঠে গিয়ে মাথায় চাপ পড়ে, মুখ ফুলে যায়, চোখে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

পুনর্বাসনে শুভাংশু
শেষ আপডেট: 16 July 2025 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাস সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। টানা ১৮ দিন মহাকাশে কাটিয়ে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুভাংশুকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এখন তিনি রয়েছেন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে।
ভারতীয় বায়ুসেনার চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুভাংশু এখন সুস্থ। ধীরে ধীরে পৃথিবীর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন। ইসরোর (ISRO) তরফেও জানানো হয়েছে, আইএসএস-এ থাকাকালীন তিনি অসাধারণ দক্ষতায় মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর কোনও গুরুতর শারীরিক বা মানসিক সমস্যা হয়নি।
তবে পৃথিবীতে ফেরার পর শরীরের ভারসাম্য ফিরে পেতে একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করছেন শুভাংশু। এই সাত দিনের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে রয়েছে, হৃদযন্ত্র, পেশি ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা যাচাই, মানসিক বিশ্লেষণ এবং ভারসাম্য পরীক্ষার মতো একাধিক ধাপ। অ্যাক্সিয়ম স্পেস (Axiom Space) এবং ইসরোর (ISRO) যৌথ তত্ত্বাবধানে চলছে এই প্রক্রিয়া।
নাসা-র ফ্লাইট সার্জন নাতাশা চাউঘ জানিয়েছেন, মহাকাশযাত্রার পরে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে দাঁড়াতে বললে অনেকে পড়ে যেতে পারেন, কারণ চোখ ছাড়া শরীরের ভারসাম্য রক্ষার বাকি সব অঙ্গ মহাকাশে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই শরীর পুরনো অবস্থায় ফিরে আসে।
প্রখ্যাত ফিজিওলজিস্ট উইলিয়াম শেলভামূর্তি জানান, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় শরীরে প্রথম ধাক্কা খায় হৃদযন্ত্র। রক্ত উপরের দিকে উঠে গিয়ে মাথায় চাপ পড়ে, মুখ ফুলে যায়, চোখে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সঙ্গে সঙ্গেই প্রভাব পড়ে ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করা অঙ্গগুলিতে। কানের ভিতরের তরল ও সেরেবেলাম মাধ্যাকর্ষণ ছাড়া ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না, ফলে মাথা ঘোরা, বমিভাব দেখা যায়।
আইএসএস-এ প্রতিদিন ১৬ বার সূর্য ওঠে ও ডোবে। যার ফলে ঘুম ও হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়। একে সামলাতে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়।
মাধ্যাকর্ষণের অভাবে পেশি ও হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এই প্রভাব দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকলে বেশি হয়। তাই শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন শরীরচর্চা ও রেসিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে দীর্ঘ সময় ছোট জায়গায় সীমিত মানুষের সঙ্গে থাকার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক চাপ তৈরি করে। সেই কারণে মহাকাশচারীদের মানসিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এই জায়গায় ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হল যোগব্যায়াম। ড. শেলভামূর্তির গবেষণায় প্রমাণিত যে প্রাণায়াম, ধ্যান, যোগব্যায়াম শরীর ও মনকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। শুভাংশু শুক্লার প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই যোগচর্চা।
পৃথিবীতে ফিরলেও আপাতত একমাস বাড়ি ফিরতে পারবেন না শুভাংশু। সূত্রে খবর, শুভাংশুর নিজের দেশ, নিজের বাড়ি ফিরতে ১৭ অগস্ট হয়ে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, রিহ্যাব ও ডি-ব্রিফিং সেশনের পরই দিল্লি আসবেন শুভাংশু। তারপর তাঁর বাড়ি ফিরতে ফিরতে আরও বেশ কয়েকদিন লাগবে।