শেষ মুহূর্তে একরাশ আশার আলো। কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসির ঠিক আগের রাতে যা ঘটল, তা অনেকের কাছেই অলৌকিক মনে হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 16 July 2025 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ মুহূর্তে একরাশ আশার আলো। কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসির ঠিক আগের রাতে যা ঘটল, তা অনেকের কাছেই অলৌকিক মনে হচ্ছে।
ইয়েমেনে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত নিমিশা প্রিয়াকে ১৬ জুলাই ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটল অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। প্রথমবারের মতো ‘ভিকটিমের’ পরিবারের একজন সদস্য আলোচনায় বসেন, আর ঠিক তার পরেই মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়।
সেভ নিমিশা প্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকশন কাউন্সিলের সদস্য ও আইনজীবী সুবাস চন্দ্রন এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, "এই প্রথম ভিকটিমের ভাই আলোচনায় অংশ নেন। সারারাত ধরে আমাদের আলোচনা চলে। সকাল হতেই মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের খবর আসে। এখন আমাদের হাতে কিছু সময় অন্তত আছে পরিবারকে বোঝানোর জন্য।"
প্রশিক্ষিত নার্স নিমিশা প্রিয়া ২০০৮ সালে কাজের জন্য ইয়েমেন যান। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় ইয়েমেনি ব্যবসায়ী তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে। অভিযোগ, ২০১৭ সালে নিজের পাসপোর্ট ফেরত পেতে গিয়ে নিমিষা তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান, যার ওভারডোজে মৃত্যু হয় তালালের। আতঙ্কে তিনি মৃতদেহ টুকরো করে গোপন করার চেষ্টা করেন। শেষপর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডেড় সাজা দেওয়া হয়।
ইয়েমেনের শারিয়াহ আইনে একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে—'দিয়া' বা রক্তমূল্য। অর্থাৎ, ভিকটিমের পরিবার যদি ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে ও দণ্ড মাফ করে দেয়, তবে মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাহার করা যায়। সূত্র বলছে, নিমিশার সমর্থকেরা প্রায় ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত প্রস্তাব দেন। কিন্তু এতদিন পরিবার আলোচনায় বসতেই রাজি হচ্ছিল না।
চন্দ্রনের কথায়, "কূটনীতির একটা সীমা আছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ক্ষেত্রে। ভারত সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। কিন্তু আসল পরিবর্তন এসেছে বিশ্বাস, ধর্মীয় প্রেক্ষাপট আর মানবিক আবেদন থেকেই।"
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য নাম কান্তাপুরম এ.পি. আবুবকর মুসালিয়ার। কেরলের এই প্রভাবশালী ইসলামি নেতার মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়। এর ফলেই শেষরাতে আলোচনার টেবিলে আসেন ভিকটিমের ভাই।
চন্দ্রন বলেন, "ওদের উপরও নানা গোষ্ঠীর চাপ ছিল। কিন্তু কেরলের নেতারা ইয়েমেনের আলেমদের সঙ্গে কথা বলে বোঝাতে পেরেছেন। প্রথমে পরিবার রাজি ছিল না, কিন্তু ধৈর্য আর অনুরোধ কাজে দিয়েছে।"
চন্দ্রনের কথায়, "আর কোনও আদালত শুনানি হবে না। বিচারব্যবস্থা তার কাজ শেষ করেছে। এখন সব নির্ভর করছে ভিকটিমের পরিবারের উপর। যদি তাঁরা দিয়ার টাকা নিয়ে ক্ষমা করেন, তবে নিমিশার বাঁচার রাস্তা রয়েছে। নাহলে আমরা তাঁকে হারাব। আমরা ইয়েমেনি বিচারব্যবস্থার কাছে কৃতজ্ঞ। এই সুযোগটাই আমরা চেয়েছিলাম—একবার বলার সুযোগ, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ।"
ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে চন্দ্রন বলেন, "এই জানলাটা খোলা আছে, কিন্তু কতক্ষণ খোলা থাকবে জানি না। দয়া করে সকলে এগিয়ে আসুন।"