এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাকে চোখে দেখেনি মিশেল। তার মধ্যেই খবর এসেছে মায়ের মৃত্যুদণ্ডের। তাই নিজের মাকে ফিরিয়ে আনতে নিজেই কার্যত উদ্যোগ নিল ছোট্ট মেয়েটি।

নিমিশা প্রিয়া
শেষ আপডেট: 28 July 2025 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের মৃত্যুদণ্ডের (Death Row) আদেশ যেন কার্যকর না হয়! এই আবেদন নিয়েই ইয়েমেনে পৌঁছেছে ১৩ বছরের মিশেল। বন্দি ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার (Nimisha Priya) মেয়ে সে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাকে চোখে দেখেনি মিশেল। তার মধ্যেই খবর এসেছে মায়ের মৃত্যুদণ্ডের। তাই নিজের মাকে ফিরিয়ে আনতে নিজেই কার্যত উদ্যোগ নিল ছোট্ট মেয়েটি। করল সবচেয়ে করুণ আকুতি — 'আই লাভ মাই মাম্মি, দয়া করে আমার মাকে ফিরিয়ে দিন।'
বাবার সঙ্গে ইয়েমেনে (Yemen) গেছে মিশেল। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন গ্লোবাল পিস ইনিশিয়েটিভ-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. কে এ পল। এক ভিডিও মারফৎ তাঁর মা এবং ইয়েমেন প্রশাসনের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছে মিশেল। ভিডিওতে তাঁর পাশেই দেখা যায় বাবা টমি থমাসকে।
কেরলের বাসিন্দা নার্স নিমিশা প্রিয়া ইয়েমেনে একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে ২০২০ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যক্তিকে খুন করেছেন তিনি। যদিও মামলার নানাদিক ঘিরে প্রশ্ন থাকায় ভারত সরকার এবং একাধিক মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব।
সম্প্রতি ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রশাদ আল আলিমি এবং হুতি নেতা মাহদি আল মাশাত নিমিশার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন। এরপরেই ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আপাতত রায় স্থগিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মেয়েকে নিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছেছেন টমি থমাস। এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় মিশেল বলেছে, “আমি মাকে দেখতে চাই। প্লিজ, ওঁকে ফিরিয়ে দিন।” একইসঙ্গে টমির আবেদন, “আমার স্ত্রীকে বাঁচান। ওঁকে যেন বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়।”
ড. কে এ পল বলেছেন, “নিমিশার মেয়ে ১০ বছর মাকে দেখেনি। আমি আশা করি দু’একদিনের মধ্যেই নিমিশা মুক্তি পাবেন। ইয়েমেন যদি এই মানবিক বার্তা দেয়, তবে তা গোটা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”