গত কয়েক সপ্তাহে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের উত্তাপ বহুগুণ বেড়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 21 August 2025 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তে (US India Tariff) টানাপোড়েন তুঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির (Nikki Haley) সতর্কবার্তা - ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
শুল্ক ইস্যুতে যে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হ্যালি বলেন, “ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত আমেরিকার। চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে হলে হোয়াইট হাউসের (White House) উচিত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করা এবং সেটাই এখন অত্যন্ত জরুরি।'' তাঁর মতে, শুল্ক চাপানো বা ভারত-পাকিস্তান বিরোধে (India Pakistan Conflict) মার্কিন হস্তক্ষেপের মতো ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে তা আদতে বিপর্যয় হবে।
গত কয়েক সপ্তাহে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের উত্তাপ বহুগুণ বেড়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে আবার ভারতীয় পণ্যের ওপর সমান শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুল্ক নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তান 'পরমাণু যুদ্ধ' থামানোর যে দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার করে আসছেন সেটাকেও গুরুত্ব দেয়নি নয়াদিল্লি। বরং স্পষ্টত বলা হয়েছে, দুই দেশের সংঘাত রোধে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) স্বাধীনতার দিবসের ভাষণে এই বার্তা দিয়েছিলেন।
এই প্রেক্ষিতেই হ্যালির মত, ভারতের তরুণ কর্মশক্তি ও দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতি চিনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর তাদের ঠেকাতে গেলে ভারতের মতো বিকল্প আর নেই। হ্যালি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারত চিনের মতো একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাই চিনের উত্থান বিশ্বের কাছে এক প্রকার হুমকি। সুতরাং, ভারতের সঙ্গে যে আমেরিকার সম্পর্ক উন্নত করা উচিত, এটাই স্পষ্টভাবে বলতে চেয়েছেন হ্যালি।