মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডান লিঞ্চের, যিনি ২৫শে অগস্ট থেকে ৩০শে অগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে আলোচনায় যোগ দিতেন।
.jpg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 17 August 2025 00:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) ঘিরে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হল। কারণ দু'দেশের মধ্যে ষষ্ঠ দফার আলোচনার (India America Trade Talks) জন্য মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের নির্ধারিত দিল্লি সফর বাতিল করা হয়েছে বলেই খবর। শনিবার এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই বৈঠককে দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল।
সূত্রে খবর, আমেরিকার দিক থেকে বাণিজ্য আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অস্থায়ী নাকি পাকাপাকিভাবে নেওয়া হয়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রতিনিধি দল যে ২৫ অগস্টের বৈঠকে ভারতে আসছে না, সেই খবর দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডান লিঞ্চের, যিনি ২৫ অগস্ট থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে আলোচনায় যোগ দিতেন।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল হওয়ার অর্থ হল, বিটিএ-র (Bilateral Trade Agreement) প্রথম ধাপ, যা কেবল পণ্য বাণিজ্য নয়, আরও কয়েকটি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল, তা মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরের শেষ ভাগের আগে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রথম ধাপের ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে ৭ অগস্ট থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই শুল্ককে বলছে 'পারস্পরিক শুল্ক' (reciprocal tariff), যা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ককে তারা বলছে 'দণ্ডমূলক ব্যবস্থা', যা ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে আরোপ করা হয়েছে। এটি ২৭শে অগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
ভারতের পক্ষ থেকে এই দণ্ডমূলক শুল্ককে 'অন্যায্য' এবং 'অযৌক্তিক' বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন এমনকি আমেরিকাও তেল কিনছে।
সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বলেন, 'দেশের কৃষক ও পশুপালকদের স্বার্থবিরোধী কোনও চুক্তি ভারত মেনে নেবে না। তবে ভারত কখনও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তার কাঠামোবদ্ধ রূপই হল এই বিটিএ আলোচনা।:
এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ এতে অর্থনৈতিকভাবে বড় পার্থক্য তৈরি হয়। ওই আধিকারিক বলেন, 'আমরা আমেরিকা থেকেও আগের তুলনায় বেশি কিনছি। তবে রাশিয়ার তেল কেনা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়।'
এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'তিনি (রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন) একজন তেলের ক্রেতা হারিয়েছেন, যা হল ভারত, একথা বলাই যায়। ভারত মোট তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ কিনছিল। চিন তো অনেকটাই নিচ্ছে। আর যদি আমি তথাকথিত দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা বা সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করি, তবে সেটা ভারতের জন্য খুবই ধ্বংসাত্মক হবে।'
উল্লেখ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে ওইদিনই আলাস্কার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে দুই নেতার ওই বৈঠক কোনওভাবেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে সমাধান আনতে পারেনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি সত্ত্বেও অগস্টের প্রথম ১৫ দিনে ভারত প্রতিদিন ১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেল আমদানি করেছে। জুলাই মাসে যেখানে গোটা মাসে আমদানি হয়েছিল ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল।