সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে সেই সব রফতানিকারকরা, যাদের ব্যবসা শুধুই আমেরিকার উপর নির্ভরশীল। বিশেষত অন্তর্বাস, শিশুদের জামা ও নাইটওয়্যার উৎপাদক কারখানাগুলি মারাত্মক চাপে রয়েছে।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 16 August 2025 23:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শুল্কচাপে সমস্যা বেড়েছে ভারতের (India) বহু রফতানি ক্ষেত্রে। যার অন্যতম উদাহরণ তামিলনাড়ুর তিরুপপুর। যাকে ভারতের নিটঅয়্যার রাজধানী (India’s knitwear capital) বলা হয়ে থাকে। ২০ হাজার কারখানার প্রায় ৩০ লক্ষ শ্রমিক বর্তমানে চাকরি নিয়ে মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
তিরুপ্পুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সচিব কুমার দুরাইস্বামী জানিয়েছেন, জেলার আড়াই হাজার রফতানিকারক এবং ২০ হাজার ছোট ইউনিট মিলে ভারতের মোট নিটওয়্যার রফতানির ৬৮ শতাংশ সরবরাহ করে। তিনি বলেন, “গত বছর আমরা ৪৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছি, যা করোনার সময়ের লকডাউন, পশ্চিমী অর্থনীতির মন্দা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও এক বিরাট সাফল্য।
তিনি আরও জানান, 'এরপর আমাদের ব্যবসা আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রধান বাজার হল আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় দেশগুলি, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব ও আফ্রিকা। এর মধ্যে আমেরিকার অংশ ৪০ শতাংশ, ইউরোপ ৪০ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ১০ শতাংশ এবং বাকিটা ১০ শতাংশ।'
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে সেই সব রফতানিকারকরা, যাদের ব্যবসা শুধুই আমেরিকার উপর নির্ভরশীল। বিশেষত অন্তর্বাস, শিশুদের জামা ও নাইটওয়্যার উৎপাদক কারখানাগুলি মারাত্মক চাপে রয়েছে। কারণ, এই সব পণ্যে লাভের ব্যবধান অত্যন্ত কম, ফলে অতিরিক্ত শুল্ক বহন করা একেবারেই অসম্ভব।
দুরাইস্বামী আরও বলেন, 'আমেরিকান ক্রেতারা জানিয়েছেন, ২৭শে অগস্টের মধ্যে প্রস্তুত পণ্য পাঠিয়ে দিতে হবে এবং কিছুটা শুল্ক নিজেদের বহন করতে হবে। বহু রফতানিকারক এতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু যখন দ্বিতীয় ধাপে ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে, সেটা কারও পক্ষেই সামলানো সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই নতুন অর্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্রেতারা জানিয়েছেন, ২৭শে অগস্টের পর আর কোনও চালান পাঠানো যাবে না।'
এই সঙ্কটের মধ্যে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে লিখেছেন, 'গত অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির ২০ শতাংশ গেছে আমেরিকায়, যেখানে তামিলনাড়ুর রফতানির ৩১ শতাংশই গেছে মার্কিন বাজারে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, এই রাজ্যের উপর প্রভাব অন্য সব রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি।'
স্ট্যালিন আরও উল্লেখ করেন, ভারতের মোট টেক্সটাইল রফতানির ২৮ শতাংশ আসে তামিলনাড়ু থেকে। তিনি সতর্ক করেছেন, 'শুল্ক বৃদ্ধি কোটি কোটি মানুষের জীবিকা বিপন্ন করে তুলবে। বিশেষত আমাদের টেক্সটাইল শিল্পে প্রায় ৭৫ লক্ষ মানুষ কাজ করেন। যদি ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয় এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে, তবে অন্তত ৩০ লক্ষ চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই রফতানির প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে সব কাঠামোগত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তা অবিলম্বে সমাধান করা প্রয়োজন।'