পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতিরঞ্জনের মৃত্যুর আগে দেওয়া বয়ানটি অডিও ও ভিডিও আকারে রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পরিবারের সদস্যরা তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 August 2025 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সঙ্গে বিবাদ চলছিল ওড়িশার বাসিন্দা জ্যোতিরঞ্জন মাথিয়ার (৪২)। এরমধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি (Odisha man burnt alive by Family)। তবে মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আত্মহত্যা (Suicide) নয়, পরিকল্পনা করেই জ্যোতিরঞ্জনকে খুন করেছেন তাঁর বাবা, সৎ মা ও সৎ ভাই। ইতিমধ্যেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালিয়ান্তা থানার অন্তর্গত সারিপুর গ্রামে থাকতেন জ্যোতিরঞ্জন মাথিয়া। অভিযোগ, তাঁর বাবা সুরেন্দ্রনাথ মাথিয়া (৭৪), সৎমা প্রভাতী মাথিয়া (৫৭) এবং সৎভাই প্রসান্ত কুমার মাথিয়া (৩৪) মিলে এই খুন করেছেন। মৃতের স্ত্রীর দাবি, পারিবারিক একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের অশান্তি চলছিল। জমি হাতানোর জন্য তাঁর শাশুড়ি শুধু তাঁর স্বামীকেই নয়, তাঁকেও নানাভাবে নির্যাতন করতেন। সুরেন্দ্রনাথ তাঁদের সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকার করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
এরপরই গত শুক্রবার জ্যোতিরঞ্জনের গায়ে পেট্রল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ (Odisha Man Murdered over Land Dispute in Family)। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাঁকে আথানতার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্যাপিটাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখান থেকে ভর্তি করা হয় ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতিরঞ্জনের মৃত্যুর আগে দেওয়া বয়ানটি অডিও ও ভিডিও আকারে রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পরিবারের সদস্যরা তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। তারা আরও জানিয়েছে, 'প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে পরিকল্পিত খুন বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হবে।'