যখন ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছেন এবং নতুন করে আরও শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তখন তাঁর দলেরই একজন নেত্রীর এই 'বিরোধী' সুর কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ডোনল্ড ট্রাম্প (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 6 August 2025 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্য রফতানির উপর উচ্চ শুল্ক বসানোর 'হুমকি'তে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালি (Nikki Halley warned Trump)। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত ভারত-মার্কিন সম্পর্কে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। হ্যালি স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন, চিনের মতো 'প্রতিদ্বন্দ্বী' দেশকে ছাড় দিয়ে ভারতের মতো বিশ্বস্ত বন্ধু দেশকে 'দগ্ধ' করে ফেলা ঠিক হবে না।
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে নিকি হ্যালি লেখেন, 'ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা উচিত নয়, এটা এক কথা। কিন্তু চিন, রাশিয়া ও ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। তারপরেও তাদের ৯০ দিনের ট্যারিফ ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আর ভারতের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানো হচ্ছে, এটা একদম ঠিক নয়।'
তিনি আরও জানান, 'চিন (China) হচ্ছে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, আর ভারত দীর্ঘদিনের বন্ধু। এমন একটা সময়ে, যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিন আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছে, তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা উচিত, ধ্বংস নয়।'
নিকি হ্যালির এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ, তিনি শুধু রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেত্রী নন, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে রাষ্ট্রপুঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং বরাবরই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী।
এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছেন এবং নতুন করে আরও শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তখন তাঁর দলেরই একজন নেত্রীর এই 'বিরোধী' সুর কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রকও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের বক্তব্য 'অযৌক্তিক' এবং 'অপ্রয়োজনীয়'। তাদের কথায়, রাশিয়ার সঙ্গে তেলা কেনাবেচা নিয়ে ভারত নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পাশাপাশি, ইউরোপ ও আমেরিকাও যে রাশিয়ার সঙ্গে নানা রকম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রক।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কিনে পরে তা চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করছে ভারত। এর জেরে ভারতের উপরে শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে। সম্প্রতি তিনি এও বলেন, ভারত আমেরিকার থেকে অনেক ব্যবসায়িক ফায়দা নেয়, কিন্তু সরাসরি ব্যবসা করে না। পাশাপাশি ভারতের শুল্কহারও অনেক বেশি। সেই কারণে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়টি মানা হবে না। তাই শুল্ক বাড়ানো হবে।
এ নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ‘‘রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কোনও অন্যায় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত একান্ত প্রয়োজন।’’ এদিকে রুশ তেল কেনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে নিশানা করে এসেছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের পাল্টা দিয়ে ভারত বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরে পশ্চিমি দেশগুলি, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union), রাশিয়া থেকে বিপুল হারে পণ্য ও জ্বালানি আমদানি করে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ভারতকে নিশানা করাটা অযৌক্তিক ও পক্ষপাতদুষ্ট।