কলকাতায় বাংলাদেশ উপ দূতাবাসে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হল জুলাই শহিদদের। তথ্যচিত্র, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত আর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বার্তায় মোড়া এক আবেগঘন সন্ধ্যা।

বাংলাদেশ উপ দূতাবাস
শেষ আপডেট: 5 August 2025 23:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বাংলাদেশের মতো কলকাতাতেও সে দেশের উপ দূতাবাসে জুলাই শহিদদের স্মরণ করা হল। দিনটির গুরুত্ব ও মর্যাদার দিকটি বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছিল ভাব গম্ভীর অনুষ্ঠান। ছিল গণ-অভ্যুত্থানের উপর ছবির প্রদর্শনী। শহিদ স্মরণে জুলাই বিপ্লব নিয়ে একটি তথ্য চিত্র দেখানো হয় অনুষ্ঠানের শুরুতে।
গত বছর ৫ অগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকার ৫ অগস্টকে গণ অভ্যুত্থান দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের সমস্ত দূতাবাসে দিনটি উদযাপিত হয়েছে।
কলকাতায় উপদূতাবাসের প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসের বাণী পাঠ করেন উপ দূতাবাসের পদস্থ আধিকারিকেরা।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেছেন, 'বৈষম্য মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপ শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র শ্রমিক জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ঐতিহাসিক এই অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমি দেশের মুক্তিকামী ছাত্র জনতাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।'

তিনি বলেছেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ ভোটাধিকারহরণসহ সব ধরনের অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই বৈষম্য মূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য। একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের মূল উৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।'
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস তাঁর বাণীতে, গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সমবেদনা জানিয়েছেন আহতদের।
বাণীতে তিনি বলেছেন, একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, গত বছর সংঘঠিত গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ইউনুস আরও বলেছেন, ৫ অগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। প্রধান উপদেষ্টা বাণীতে শেখ হাসিনার জমানার ১৬ বছর নিয়ে অনাচার, বঞ্চনা, অপশাসনের অভিযোগ করে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনও দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সকলে মিলে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই সংস্কারের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের আশাকআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ আজকের দিনে আমার একান্ত প্রত্যাশা।'
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী উপ হাই কমিশনার সিকদার মহম্মদ আশরাফুর রহমান, কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) তুশিতা চাকমা, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মরিওউম বেগম শোরনা, কাউন্সেলর (কনস্যুলার) আলমাস হোসেন, প্রেস সচিব মহম্মদ তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া প্রমুখ।