৫ অগস্ট ২০২৪-এর পড়ন্ত দুপুর। ঠিক এমন সময় গোটা বিশ্ব জানতে পরেছিল, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আশ্রয় নিচ্ছেন ভারতে।

শেষ আপডেট: 5 August 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ অগস্ট ২০২৪-এর পড়ন্ত দুপুর। ঠিক এমন সময় গোটা বিশ্ব জানতে পরেছিল, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আশ্রয় নিচ্ছেন ভারতে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের এক দফা এক দাবি কর্মসূচির জেরে অবরুদ্ধ ঢাকায় শেষ পর্যন্ত কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে এমন সম্ভাবনা আঁচ করেছিলেন অনেকেই। ৫ অগস্ট বেলা বারোটার আগেই মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, টানা ১৬ বছরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করছেন।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জানা গিয়েছিল শুধু গদি ছাড়াই নয়, দেশও ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। গোটা বিশ্বকে সেই অভাবনীয় খবর দিয়েছিলেন সাংবাদিক শফিকুল আলম। তিনি তখন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির ঢাকা ব্যুরোর চিফ। যে খবর একদিকে কোটি কোটি বাংলাদেশির কাছে ছিল মেঘ না চাইতে পানীর মতো ঘটনা। বিজয় উল্লাসের গর্জনে ফেটে পড়েছিল গোটা দেশ। দলে দলে মানুষ গিয়ে দখল নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের।
দেখা গিয়েছিল ভিন্ন দৃশ্যও। আওয়ামী লিগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের মন্ত্রী, সাংসদ, নেতা, কর্মী থেকে সাধারণ সমর্থকেরা গা ঢাকা দিতে ব্যস্ত। ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আনন্দ, উৎসবের মধ্যেই চলতে থাকে খুন-সন্ত্রাস।

২০২৪-এর ৫ অগস্টের পড়ন্ত বিকালে আচমকা পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছিল ওই একটি খবরে যা টেলিভিশনের পর্দা থেকে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল, 'হাসিনা পলাইসে।'
মঙ্গলবার বাংলাদেশ যখন গণ আন্দোলনের বর্ষপূর্তি পালন করছে তখন ফেসবুকে দু চার লাইনে এক বছর আগের সেই মুহূর্তটি স্মরণ করছেন শফিকুল আলম।
সাংবাদিকদেরা যে খবর করেন তা দেশের গণ্ডি পেরোয় কদাচিৎ। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ ছিল সব দেশের জন্য বড় খবর। স্বভাবতই প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের খবর একশো শতাংশ মিলে যাওয়ার মুহূর্তে আনন্দ ভাগ করে নিতে শফিকুলের পরিবারের সদস্যরা।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, 'জয়ের মুহূর্ত। আমার পরিবার এএফপি ঢাকা ব্যুরোতে আমার কর্মস্থলে আমাকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিল। যেখানে বসে আমি হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবরটি করেছিলাম। আল্লাহ আমাকে সবকিছু দিয়েছেন!! আলহামদুলিল্লাহ!!'
পালাবদলের পর বাংলাদেশের সেই নামজাদা সাংবাদিক শফিকুল আলম এএফপির মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব হয়েছেন। বলতে গেলে তিনিই বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র। উপদেষ্টারা নন, সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপের কথা প্রধান উপদেষ্টা জনগণকে জানান তাঁর প্রেস সচিবকে দিয়ে। বাংলাদেশে এমন কর্মব্যস্ত প্রেস সচিব আগে দেখা যায়নি।
বস্তুত সদা সক্রিয় শফিকুল ক্রমে মুখপাত্র থেকে মুখ হয়ে উঠেছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং মিডিয়া ও সমাজমাধ্যম।। সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা নানা ব্যর্থতা, সমালোচনার জবাব দিতে তিনি সাবলীল। রাজনীতিকদের থেকেও বেশি সাবলিল রাজনৈতিক আক্রমণ। দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি বাংলাদেশের কসাই বলেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লিগ অতীত হয়ে।গিয়েছে।
আবার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট পদামর্যাদায় সরকারের সিনিয়র সচিব শফিকুল আলম উপদেষ্টাদের সমান প্রশাসনিক গুরুত্ব ও মর্যাদা আদায় করে নিয়েছেন। স্বভাবতই তাঁর গুণগ্রাহী এবং নিন্দুক, উভয়ই সংখ্যায় ভারী। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও রাজনৈতিক আক্রমণ করা নিয়ে প্রেস সচিবের ব্যাখ্যা, এটা সময়ের দাবি। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলের সরকার নয়। কিন্তু রাজনৈতিক আক্রমণ সইতে হয়। সরকারের তরফে রাজনৈতিক অভিযোগের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন হয় মাঝে মাঝে। তবে আওয়ামী লিগ ছাড়া আর কোনও দলকে আক্রমণ করেন না তিনি।