এক সময় যাঁর যান্ত্রিক উত্তর শুনে সাংবাদিকরা আড়ালে ডাকতেন ‘রোবট জেটেন’ (Rob Jetten), আজ তিনিই নেদারল্যান্ডসের মধ্যমণি।

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন
শেষ আপডেট: 24 February 2026 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় যাঁর যান্ত্রিক উত্তর শুনে সাংবাদিকরা আড়ালে ডাকতেন ‘রোবট জেটেন’ (Rob Jetten), আজ তিনিই নেদারল্যান্ডসের মধ্যমণি। সোমবার প্রধানমন্ত্রী (Netherlands Gay Prime Minister) হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রব ইয়েটেনকে ঘিরে ডাচ রাজনীতিতে প্রবল উৎসাহ। ২০১৭ সালে প্রথম বার পার্লামেন্টে পা রাখা এই তরুণ তুর্কি মাত্র এক দশকের মধ্যেই পৌঁছে গেলেন ক্ষমতার শিখরে।
‘রোবট’ থেকে ‘স্মার্টেস্ট পার্সন’
রাজনীতির শুরুর দিনগুলোতে জেটেনকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশার অন্ত ছিল না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তোতাপাখির মতো মুখস্থ বুলি আওড়াতেন বলে তাঁর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘রোবট’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলেছেন তিনি। টেলিভিশনের জনপ্রিয় কুইজ শো ‘দ্য স্মার্টেস্ট পার্সন’-এর ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সেই থেকে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও শান্ত স্বভাব ডাচ আমজনতার কাছে জনপ্রিয়তার রসদ হয়ে দাঁড়ায়।
খোলা মনে প্রেম এবং সামাজিক বার্তা
২০০১ সালে নেদারল্যান্ডস ছিল বিশ্বের প্রথম দেশ যেখানে সমকামী বিবাহ আইনি স্বীকৃতি পেয়েছিল। সেই দেশেরই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জেটেন তাঁর জীবনসঙ্গী নিকোলাস কিনানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা কখনও লুকিয়ে রাখেননি। নিকোলাস আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত হকি তারকা, যিনি ২০২৪-এর প্যারিস অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জয় করেছেন। নির্বাচনের জয়ের পর নিকোলাসের সঙ্গে আলিঙ্গনরত ছবি পোস্ট করে স্প্যানিশ ও ডাচ ভাষায় জেটেনের আবেগঘন বার্তা— “প্রিয় নিকো, তোমার নিঃস্বার্থ সমর্থন ছাড়া আমি এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না।”
জলবায়ুর অতন্দ্র প্রহরী
রাজনীতিতে জেটেন পরিচিত ‘ক্লাইমেট পুশার’ বা জলবায়ু আন্দোলনের জোরালো কণ্ঠস্বর হিসেবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বর্তমানে নেটো প্রধান মার্ক রুটের মন্ত্রিসভায় থাকাকালীন জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ২৮০০ কোটি ইউরোর একটি বিশাল প্যাকেজ তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা। দক্ষিণ-পূর্বের উডেন শহরে বেড়ে ওঠা ইয়েটেন ছাত্রজীবনে নিজেও অ্যাথলিট ছিলেন। এক সময় অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন সিফান হাসানের ‘পেস সেটার’ হিসেবে দৌড়তেন তিনি। আজ সেই অ্যাথলিটই সামলাবেন নেদারল্যান্ডসের প্রশাসনিক দৌড়।
কাঁটা বিছানো পথ
তবে গদিতে বসলেও জেটেনের পথ খুব একটা মসৃণ নয়। ১৫০ আসনের ডাচ পার্লামেন্টে তাঁর তিন-দলীয় জোটের দখলে রয়েছে মাত্র ৬৬টি আসন। অর্থাৎ, প্রতিটি বিল পাশ করানো বা বড় সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে নির্ভর করতে হবে বিরোধী দলগুলোর সমর্থনের ওপর। সংখ্যালঘু সরকার নিয়ে ইয়েটেন কতদূর নিজের জলবায়ু বা প্রশাসনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।