অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের অন্দরমহলে অতিরিক্ত সদভাবের সংস্কৃতির জেরে অনেক ক্ষেত্রেই অ্যান্ড্রুর খরচ খতিয়ে দেখা হত না। বিভিন্ন বাজেটের মধ্যে ব্যয় ছড়িয়ে দেওয়ায় হিসাবও জটিল হয়ে উঠত। এমনকি এক প্রাক্তন বাণিজ্যকর্তা বলেছেন, অ্যান্ড্রুর কিছু সফর উল্টে বাণিজ্য প্রচেষ্টাকেই বিপাকে ফেলত।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর
শেষ আপডেট: 23 February 2026 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে (Former Prince Andrew Windsor) ঘিরে ফের বিতর্কের ঝড়। সরকারি দায়িত্বে থাকার সময়ে করদাতাদের অর্থে ব্যক্তিগত ম্যাসাজ পরিষেবার (Massage Service) বিল মেটানো এবং অতিরিক্ত ভ্রমণ ব্যয়ের অভিযোগ তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত কয়েক জন শীর্ষ আমলা। এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই বিস্ফোরক দাবি।
অভিযোগ, ২০০০ সালের গোড়ায় আরব দুনিয়ায় সফরের পর ‘ম্যাসাজ পরিষেবা’ খাতে একটি বিল জমা পড়ে। এক প্রাক্তন আমলা দাবি করেছেন, তিনি ওই বিল মেটানোর বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “এটা ভুল বলেই মনে হয়েছিল। আমি আপত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা দেওয়া হয়।”
অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন। পদটি বেতনবিহীন হলেও বিদেশ সফর ও সহায়ক কর্মীদের খরচ বহন করত সরকার। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠছে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে। আর এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্তা দাবি করেছেন, সফরগুলিতে বিপুল ব্যয় হত - বারবার উড়ান, বড় হোটেল বুকিং, সঙ্গীদের খরচ - সব মিলিয়ে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের অন্দরমহলে অতিরিক্ত সদভাবের সংস্কৃতির জেরে অনেক ক্ষেত্রেই অ্যান্ড্রুর খরচ খতিয়ে দেখা হত না। বিভিন্ন বাজেটের মধ্যে ব্যয় ছড়িয়ে দেওয়ায় হিসাবও জটিল হয়ে উঠত। এমনকি এক প্রাক্তন বাণিজ্যকর্তা বলেছেন, অ্যান্ড্রুর কিছু সফর উল্টে বাণিজ্য প্রচেষ্টাকেই বিপাকে ফেলত।
এরই মধ্যে দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়েও তদন্ত চলছে। সম্প্রতি পৃথক এক মামলায় সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদিও তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক দায়িত্ব থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভ করেননি।
ব্রিটেনের ব্যবসা ও বাণিজ্য দফতর ম্যাসাজ বিলের অভিযোগ খণ্ডন না করলেও চলতি তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে। এদিকে সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতেও এই ইস্যুতে তদন্ত শুরু হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলেও চাপ বাড়ছে। ফলে বিতর্কের আঁচ আপাতত থামার লক্ষণ নেই।
বহু বছর ধরেই এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। হালে গ্রেফতারও হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বিচার দফতরের লক্ষাধিক নথি প্রকাশ্যে আসার পর চাপ আরও বাড়ে। রাজা চার্লস থ্রি-এর (King Charles III) ভাই অ্যান্ড্রু গত বছরই তাঁর রাজকীয় উপাধি হারান। বর্তমানে তিনি কেবল অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর নামেই পরিচিত। যদিও এপস্টিন কাণ্ডে কোনও অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করেছেন তিনি।