এপস্টাইনের পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাডেন। যদিও তিনি নিজে ময়নাতদন্ত করেননি, পর্যবেক্ষক হিসেবে পুরো প্রক্রিয়ায় ছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এপস্টাইনের মৃত্যু সম্ভবত গলায় চাপ প্রয়োগের ফলে, ঝুলে আত্মহত্যার কারণে নয়।

জেফ্রি এপস্টাইন
শেষ আপডেট: 14 February 2026 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টাইন (Jeffrey Epstein)-কে। সে সময় ফেডারেল যৌন পাচার মামলায় বিচারাধীন ছিলেন তিনি। সরকারি রিপোর্টে তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা (Suicide) বলে জানানো হলেও, সেই কারণ নিয়ে প্রশ্ন আজও রয়েছে। নতুন করে সেই বিতর্ক উস্কে দিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল ব্যাডেন।
এপস্টাইনের পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্তের (Jeffrey Epstein Autopsy) সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাডেন। যদিও তিনি নিজে ময়নাতদন্ত করেননি, পর্যবেক্ষক হিসেবে পুরো প্রক্রিয়ায় ছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এপস্টাইনের মৃত্যু সম্ভবত গলায় চাপ প্রয়োগের ফলে, ঝুলে আত্মহত্যার কারণে নয়। ব্যাডেনের দাবি, এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে মৃত্যুর কারণ ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মেডিক্যাল এক্সামিনারের দফতর এপস্টাইনের মৃত্যু ‘হ্যাংগিং’-এর মাধ্যমে আত্মহত্যা বলে চিহ্নিত করে। তৎকালীন প্রধান মেডিক্যাল এক্সামিনার সেই সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। যদিও ব্যাডেনের দাবি, ময়নাতদন্তের সময় স্যাম্পসন উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর কথায়, প্রথম পর্যায়ে মৃত্যুর কারণ ‘অনির্দিষ্ট’ বলেই মনে হয়েছিল।
অটোপসি রিপোর্টে এপস্টাইনের গলায় তিনটি দাগের উল্লেখ রয়েছে - হাইয়য়েড হাড়ে একটি এবং থাইরয়েড কার্টিলেজে দুটি। ব্যাডেন জানান, তাঁর পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতায় আত্মহত্যাজনিত ফাঁসের ঘটনায় এমন তিনটি দাগ তিনি কখনও দেখেননি, এমনকি নিউইয়র্কের জেলগুলিতে বন্দিদের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও নয়। ২০১৯ সালেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রমাণ খুনের দিকেই বেশি ইশারা করছে। এদিকে এপস্টাইনের আইনজীবীরাও মেডিক্যাল এক্সামিনারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক গাফিলতির তথ্য সামনে আসে। ২০২৩ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের রিপোর্টে বলা হয়, মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারিতে ফাঁক ছিল। এপস্টাইনের কক্ষে অতিরিক্ত কম্বল ও পোশাক পাওয়া গিয়েছিল, যেগুলির কিছু অংশ ছেঁড়া অবস্থায় ছিল।
মৃত্যুর আগের দিন তাঁর সেলমেটকে সরিয়ে নেওয়া হয়, বদলি কাউকে দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আধঘণ্টা অন্তর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার কথা থাকলেও, রাত সাড়ে দশটার পর তা হয়নি। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রহরীর বিরুদ্ধে নথি জাল করার অভিযোগ ওঠে।
সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এক রিপোর্টে রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে উপরের তলায় কমলা রঙের কিছু নড়াচড়া করতে দেখা যায়। এফবিআই সেটিকে 'সম্ভবত কোনও বন্দি' বলে উল্লেখ করলেও, ইন্সপেক্টর জেনারেলের রিপোর্টে তা এক অজ্ঞাত কারারক্ষী বলে দাবি করা হয়। তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, ওই রাতে কেউ প্রবেশ করেনি। তবে ইঙ্গিত মিলেছে, তা সম্ভবত বন্দির পোশাক পরা কারও গতিবিধি।
সব মিলিয়ে, বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অস্পষ্ট। ডা. ব্যাডেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আবারও আলোচনায় এপস্টাইনের মৃত্যু। যে মামলা একসময় শেষ বলে মনে হয়েছিল, তা হয়তো এখনও অমীমাংসিত।