জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত মার্কিন নথিতে নাম উঠতেই সাফাই দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 11 February 2026 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর যোগাযোগ ছিল, আমেরিকার বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথি ঘিরে (Epstein Files) এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। বুধবার লোকসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন। এরপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)।
এপস্টিনের সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন পুরী। তবে তাঁর দাবি, সেই সাক্ষাৎ ছিল একটি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে। রাহুলের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যে কথাবার্তা হয়েছিল, তার সঙ্গে এপস্টিনের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগের কোনও সম্পর্ক নেই।
গত ৩০ জানুয়ারি এপস্টিন সংক্রান্ত একাধিক নথি ও ই-মেল প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এপস্টিনের সঙ্গে পুরীর যোগাযোগ ছিল। তবে ওই সময়কালে তিনি কোনও সরকারি পদে ছিলেন না। ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন হরদীপ সিং পুরী এবং ২০১৭ সালে মন্ত্রী হন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এপস্টিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এপস্টিনের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পুরীর আরও দাবি, তাঁর যোগাযোগ মূলত ছিল লিঙ্কডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের সঙ্গে। তাঁকে ভারতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন তিনি। পুরীর কথায়, “এপস্টিনের কর্মকাণ্ডে আমার কোনও আগ্রহ ছিল না। আমিও তাঁর জন্য সঠিক ব্যক্তি ছিলাম না।” পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রকাশিত নথিতে এপস্টিন তাঁকে ‘টু-ফেসড’ (মুখে এক, মনে এক) বলে উল্লেখ করেছেন—সেই মেলগুলি রাহুলের পড়ে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য, যৌন হেনস্থা, ধর্ষণ ও নাবালিকা পাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন জেফ্রি এপস্টিন। প্রায় ৪০ জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই নাবালিকা। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি ৪৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে ২০১৯ সালে জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করেন এপস্টিন। তাঁর সঙ্গে কারা কারা যোগাযোগ রাখতেন, সে বিষয়ে ভার্জিনিয়া জিফ্রে নামে এক মহিলা আদালতে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে বিল ক্লিন্টন, মাইকেল জ্যাকসন, ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ বিশ্বজোড়া বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে বলে শোনা যায়। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।