এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তার আগের ‘ক্লায়েন্টদের’ মধ্যে অন্য কোনও সন্দেহজনক মৃত্যুর সঙ্গে তার যোগ রয়েছে কি না।

শেষ আপডেট: 11 February 2026 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার পীরাগড়ি ফ্লাইওভারে পার্ক করা গাড়ির মধ্যে থেকে তিনটি দেহ উদ্ধারের ঘটনার অবশেষে কিনারা খুঁজে পেল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। গ্রেফতার এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক (tantrik arrested Delhi)। সেই ওই তিন জনকে বিষ খাইয়ে মৃত্যুর (Delhi murder case) দিকে ঠেলে দিয়েছিল এবং সুযোগ বুঝে তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের নাম কামরুদ্দিন, ওরফে ‘বাবা’। উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের বাসিন্দা সে। দিল্লির পীরাগড়ি এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে তিন জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রবিবার। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম রণধীর (৭৬), নরেশ সিং (৪৭) এবং লক্ষ্মী দেবী (৪০)।
ধনসম্পদ এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ‘পুজো’ করানোর নাম করে তিন জনকে লাড্ডুতে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায় (ladoo poisoning case) ওই ব্যক্তি। তারা অচেতন হয়ে পড়লে গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীতে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
পুলিশের দাবি, কামরুদ্দিন লোনি ও ফিরোজাবাদ এলাকায় ভুয়ো তান্ত্রিক কেন্দ্র চালাত। সেখানে ‘ধনবর্ষা’ বা হঠাৎ আর্থিক লাভ করিয়ে দেওয়ার নাম করে লোকজনকে প্রলুব্ধ করত।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন তিন জনের সঙ্গে একই গাড়িতে ওঠে অভিযুক্ত। যাত্রাপথে তাঁদের মদ, ঠান্ডা পানীয় এবং বিষ মেশানো লাড্ডু খেতে দেয়। তারা অচেতন হয়ে পড়তেই নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় সে। পরে পীরাগড়ি ফ্লাইওভারের কাছে গাড়ি ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়।
গাড়ি থেকে উদ্ধার নানা জিনিস
পুলিশ গাড়ি থেকে মদের বোতল, ঠান্ডা পানীয়, খালি গ্লাস, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, হেলমেট, জ্যাকেট, আধার কার্ড-সহ ব্যক্তিগত নানা সামগ্রী উদ্ধার করেছে।
কল ডিটেলস ও লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার আগের দিন তিন জনই গাজিয়াবাদের লোনি এলাকায় গিয়েছিলেন এবং অভিযুক্তের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন গাড়িতে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে কামরুদ্দিনই ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি
প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরে জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত, দাবি পুলিশের।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রায় দু’মাস আগে এক পরিচিতের মাধ্যমে লক্ষ্মী দেবীর সঙ্গে পরিচয় হয় কামরুদ্দিনের। পরে তিনি রণধীর ও নরেশকে তার কাছে নিয়ে আসেন। বিশেষ ‘ধনবর্ষা পুজো’ করার জন্য তাদের ২ লক্ষ টাকা নগদ, মদ এবং সফট ড্রিংক আনতে বলা হয়েছিল।
আগেও অপরাধের অভিযোগ
পুলিশ জানিয়েছে, কামরুদ্দিন পুরনো অপরাধী। রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশে গুরুতর অপরাধের মামলাতেও তার নাম জড়িয়েছে আগে। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তার আগের ‘ক্লায়েন্টদের’ মধ্যে অন্য কোনও সন্দেহজনক মৃত্যুর সঙ্গে তার যোগ রয়েছে কি না।