ব্রিটেন পুলিশ এক বিবৃতিতে অবশ্য কারও নাম নেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ষাটের কোঠায় এক ব্যক্তিকে সরকারি পদে থেকে অসৎ আচরণ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা আজীবন কারাদণ্ড।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর
শেষ আপডেট: 19 February 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনের রাজপরিবারে (Britain) নজিরবিহীন ঘটনা। প্রাক্তন রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে (Former Prince Andrew Windsor) বৃহস্পতিবার, তাঁর ৬৬তম জন্মদিনেই গ্রেফতার করল পুলিশ। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও যোগাযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রকাশ্যে আসা নথির জেরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
বহু বছর ধরেই এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বিচার দফতরের লক্ষাধিক নথি প্রকাশ্যে আসার পর চাপ আরও বাড়ে। রাজা চার্লস থ্রি-এর (King Charles III) ভাই অ্যান্ড্রু গত বছরই তাঁর রাজকীয় উপাধি হারান। বর্তমানে তিনি কেবল অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর নামেই পরিচিত। যদিও এপস্টিন কাণ্ডে কোনও অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করেছেন তিনি।
ব্রিটেন পুলিশ এক বিবৃতিতে অবশ্য কারও নাম নেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ষাটের কোঠায় এক ব্যক্তিকে সরকারি পদে থেকে অসৎ আচরণ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা আজীবন কারাদণ্ড। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশের বিবৃতি থেকেই কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
পুলিশ এও জানিয়েছে, বার্কশায়ার ও নরফোক - দু’টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। সম্প্রতি পর্যন্ত অ্যান্ড্রু উইন্ডসরের রয়্যাল লজে থাকতেন, পরে নরফোকের স্যান্ড্রিংহ্যাম এস্টেটে নতুন ঠিকানায় ওঠেন।
এই মাসের শুরুতে পুলিশ জানায়, ২০১০ সালে ব্রিটেনের বাণিজ্য দূত থাকাকালীন অ্যান্ড্রু নাকি গোপন নথি এপস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকাশিত এক ই-মেলে দেখা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন এপস্টিনকে পাঠানো হয়েছিল।
এপস্টিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ভার্জিনিয়া রবার্টস গিউফ্রে ২০২১ সালে মামলা করে দাবি করেছিলেন, ১৭ বছর বয়সে তাঁকে এপস্টিন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পাচার করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অ্যান্ড্রুও ছিলেন। অ্যান্ড্রু সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ২০১৯ সালে তিনি রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং ২০২২ সালে গিউফ্রের সঙ্গে আইনি সমঝোতায় পৌঁছন।
রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য, অথবা প্রাক্তন সদস্য গ্রেফতার হওয়া আধুনিক কালে অত্যন্ত বিরল। ঐতিহাসিকরা বলছেন, টিউডর বা স্টুয়ার্ট যুগে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতারির নজির থাকলেও সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা কার্যত শোনা যায়নি। ব্রিটেনের রাজপরিবারের জন্য এই অধ্যায় নিঃসন্দেহে গভীর অভিঘাত বয়ে আনল।