কাতজ জানিয়েছেন, ২০২৫-এর নভেম্বরে একটি অতি গোপন বৈঠকে নেতানিয়াহু খামেনেই-হত্যার লক্ষ্য স্থির করেন। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ২০২৬-এর জুন মাস নাগাদ এই অভিযান চালানো হবে।

খামেনেই
শেষ আপডেট: 6 March 2026 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali khamenei) সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আজকের নয়, বরং ৯০ দিন আগে, গত নভেম্বর মাসেই সেই নীলিনকশা তৈরি করে ফেলেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বৃহস্পতিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাতজ (Israel Katz)। তিনি জানিয়েছেন, মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে বোঝাপড়ার ফলেই জুনের বদলে ফেব্রুয়ারিতেই হামলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় তেল আভিভ ও ওয়াশিংটন।
নভেম্বরের গোপন বৈঠক ও ‘অপারেশন’
কাতজ জানিয়েছেন, ২০২৫-এর নভেম্বরে একটি অতি গোপন বৈঠকে নেতানিয়াহু খামেনেই-হত্যার লক্ষ্য স্থির করেন। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ২০২৬-এর জুন মাস নাগাদ এই অভিযান চালানো হবে। ইজরায়েল শুরুতে এই পরিকল্পনা আমেরিকাকে জানায়নি। কারণ হিসেবে কাতজ বলেন, “আমরা ধরে নিয়েছিলাম, প্রয়োজন পড়লে একাই এই অভিযান শেষ করার ক্ষমতা আমাদের আছে।”
পাশা উল্টে দিল ইরানের গণবিক্ষোভ
ডিসেম্বরের শেষে ইরানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভ শুরু হতেই পরিস্থিতির আমূল বদল ঘটে। রাস্তায় নেমে হাজার হাজার মানুষ মুসলিমতন্ত্রের পতনের ডাক দেন। কাতজ জানান, এই গণ-অসন্তোষ দেখে ইজরায়েল ও আমেরিকা দুই পক্ষই প্রমাদ গোনে। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, কোণঠাসা হয়ে ইরানি শাসকরা হয়তো ইজরায়েল বা মার্কিন ঘাঁটির ওপর আগেভাগে ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা চালিয়ে বসতে পারে। এই কৌশলগত সুযোগ ও আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আক্রমণের দিন এগিয়ে আনেন নেতানিয়াহু।
লক্ষ্য কেবল যুদ্ধ নয়, ‘শাসন বদল’
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাফ কথা, এ বারের হামলা গত বছরের (জুন ২০২৫) তুলনায় তিন গুণ বেশি শক্তিশালী। এবারের লক্ষ্য কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বা পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করা নয়, বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই বর্তমান সরকারকে উপড়ে ফেলতে পারেন। কাতজের ভাষায়, “আমরা চাই ইরানি জনগণই এই শাসনের পতন ঘটান। আমরা কেবল সেই পথটা প্রশস্ত করে দিচ্ছি।”
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু রসায়ন
কাতজের দাবি, খামেনেইকে সরিয়ে দেওয়ার মতো এত বড় অভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো রাষ্ট্রনেতাকে পাশে পাওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র নেতানিয়াহুরই। তাঁর মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে যে স্তরের সমন্বয় নেতানিয়াহু গড়ে তুলেছেন, তা বিশ্বের অন্য কোনও নেতার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
তবে এই যুদ্ধই কি শেষ? সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন, আট মাস পর কি আবার নতুন কোনও যুদ্ধের সাক্ষী হবে আরব দুনিয়া? তখন সরাসরি কোনও গ্যারান্টি দেননি কাতজ। তিনি কেবল জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা আর প্রক্সি গোষ্ঠীদের সাহায্য করার ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা থামবেন না।