মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali-Khamenei) সমাধিস্থ করা হবে ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে (Mashhad)। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali-Khamenei) সমাধিস্থ করা হবে ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে (Mashhad)
শেষ আপডেট: 4 March 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali-Khamenei) সমাধিস্থ করা হবে ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে (Mashhad)। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক গুরুত্ব নয়, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক—সব মিলিয়েই মাশহাদকেই বেছে নেওয়া হয়েছে খামেনেইয়ের শেষ ঠিকানা হিসেবে।
কেন মাশহাদেই সমাধি?
মাশহাদ শহরটির সঙ্গে খামেনেই পরিবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৩৯ সালে এই শহরেই জন্ম হয়েছিল আলি খামেনেইয়ের। তাঁর বাবা, শিয়া ইসলামের একজন ধর্মগুরু ছিলেন> তাঁকেও মাশহাদের ইমাম রেজা দরগাহের কাছে সমাধিস্থ করা হয়েছে। ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে খামেনেই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন।
শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর
মাশহাদ শুধু ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরই নয়, এটি শিয়া মুসলিমদের কাছে অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। এই শহরেই রয়েছে ইমাম রেজা মাজার, যেখানে শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম আলি আল-রিদাকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি তীর্থযাত্রী এই মাজারে আসেন।
ইরানের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই শহর রাজাভি খোরাসান প্রদেশের রাজধানী। ইতিহাসে একসময় আফশারিদ সাম্রাজ্যের আমলেও মাশহাদ রাজধানী ছিল।
তেহরানে শেষ শ্রদ্ধা, তারপর দাফন
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) জানিয়েছে, দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে একটি বিশাল বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন সূত্রের খবর, শুক্রবারই শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়ে জল্পনা
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনেই-কে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। যদিও তিনি কখনও সরাসরি সরকারি পদে ছিলেন না, তবু ইরানের ক্ষমতার অন্দরে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।
এদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আপাতত একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ দেশ পরিচালনা করছে। সেখানে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি।