ওলির ইস্তফার পর থেকেই কে অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরবেন, তা নিয়ে সরগরম ছিল নেপাল। প্রথমে কাঠমান্ডুর মেয়র তথা জনপ্রিয় র্যাপার বলেন্দ্র শাহ ওরফে বলেনের নাম উঠে আসে। পরে আলোচনায় আসেন প্রাক্তন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কুল মান ঘিসিং।
.jpeg.webp)
সুশীলা কার্কী।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 22:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঠমান্ডুর (Nepal) রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন সুশীলা কার্কী (first woman PM as Sushila Karki )! প্রথম মহিলা হিসাবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আসনে বসেছিলেন তিনি। এ বার নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হলেন ৭২ বছরের সুশীলা। শুক্রবার রাত সওয়া ৯টায় রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি ভবন শীতল আবাস থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই ঘোষণা করা হয়।
ওলির ইস্তফার পর থেকেই কে অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরবেন, তা নিয়ে সরগরম ছিল নেপাল। প্রথমে কাঠমান্ডুর মেয়র তথা জনপ্রিয় র্যাপার বলেন্দ্র শাহ ওরফে বলেনের নাম উঠে আসে। পরে আলোচনায় আসেন প্রাক্তন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কুল মান ঘিসিং। আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁকে সমর্থনও জানায়। তবে ছাত্র-যুব নেতৃত্বের মূল অংশ শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কার্কীর পক্ষেই ঐকমত্যে পৌঁছয়। ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁর নাম চূড়ান্ত হয়।
কার্কীর রাজনৈতিক উত্থানও সমান চমকপ্রদ। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আন্দোলনকারীদের কাছে লিখিত সমর্থন চান সুশীলা। শর্ত ছিল অন্তত ১,০০০ স্বাক্ষর। কিন্তু প্রথমেই ২,৫০০-রও বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে তাঁর পক্ষে। এরপরেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেন ছাত্র-যুব নেতৃত্ব। এমনকি, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা দেওয়া মেয়র বলেনও সমর্থন জানান কার্কীকে।
পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষিকা হিসেবে। পরে আইনজীবী এবং বিচারপতি। ২০০৬ সালে সংবিধান খসড়া কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি পদে আসীন হন কার্কী। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী— নেপালের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সুশীলা কার্কী নির্ভীক, যোগ্য এবং সৎ বিচারক হিসেবেই খ্যাতি পেয়েছেন। শুক্রবার থেকে তাঁর হাতে নেপালের হাল। আন্দোলনের তুফানেই এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় লিখতে চলেছেন তিনি।