সল্লাপুরী দাবি করেন, কাজের সময় বাঘ এসে তাঁর স্বামীকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বন দফতর ও পুলিশ মিলে অভিযান চালায়। প্রবল বৃষ্টিতে অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হলেও পরে মৃতদেহ উদ্ধার হয় তাঁদেরই বাড়ির পিছনে। চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন দেখা যায় গোটা দেহে গোবর মাখানো।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 21:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামীকে বিষ খাইয়ে খুন করে তার দায় চাপালেন বাঘের ঘাড়ে (Karnataka Woman Kills Husband, Blames Tiger Attack To Claim Compensation)! শুধু তাই নয়, সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ চাইলেন মোটা অঙ্কের টাকা। শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়তেই ফাঁস হয়ে গেল গোটা নাটক। কর্নাটকের মাইসুরু জেলার চিক্কাহিজ্জুর গ্রামের ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তি বেঙ্কটস্বামী এবং তাঁর স্ত্রী সল্লাপুরী কৃষিক্ষেত্রে দিনমজুরের কাজ করতেন। কিছুদিন আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান বেঙ্কটস্বামী।
সল্লাপুরী দাবি করেন, কাজের সময় বাঘ এসে তাঁর স্বামীকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বন দফতর ও পুলিশ মিলে অভিযান চালায়। প্রবল বৃষ্টিতে অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হলেও পরে মৃতদেহ উদ্ধার হয় তাঁদেরই বাড়ির পিছনে। চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন দেখা যায় গোটা দেহে গোবর মাখানো।
এমন পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি সল্লাপুরী। সরকারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানান, বাঘের আক্রমণে স্বামী মারা গিয়েছেন, তাই তাঁকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হোক। কিন্তু তদন্ত যত গভীর হতে থাকে, ততই ধীরে ধীরে উঠে আসে সত্য।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে ঘোর অস্বীকার করলেও পরে ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত। স্বীকার করেন, দাম্পত্য কলহই এই খুনের নেপথ্যে। বহুদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে অশান্তি চলছিল। তাই পরিকল্পনা করে খাবারে বিষ মিশিয়ে দেন তিনি। বেঙ্কটস্বামীর মৃত্যু হলে মৃতদেহ টেনে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখেন বাড়ির পিছনে। গোবর মেখে দেন যাতে দুর্গন্ধ চাপা থাকে এবং কেউ সন্দেহ না করে।
অন্যদিকে, গ্রামে কয়েক দিন ধরে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন সল্লাপুরী। তাই পুরো ঘটনাকে বাঘের আক্রমণ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অবশেষে কর্নাটক পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলে। পুলিশের বক্তব্য, ক্ষতিপূরণের লোভই মূল উদ্দেশ্য, নাকি দাম্পত্য কলহ—তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তবে গোটা ঘটনায় তোলপাড় মাইসুরু জেলা।
বাঘের নাম ব্যবহার করে এমন এক মর্মান্তিক খুন যে ঢাকা যেতে পারে, তা ভেবেই হতবাক গ্রামবাসীরা।