প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনজনেই জঙ্গলের দিকে পিঠ রেখে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই নীরবে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। মুহূর্তের মধ্যে নৌকায় উঠে চিরঞ্জিতের ঘাড়ে কামড়ে ধরে টেনে নিয়ে যায় গভীর বনে।

এআই গ্রাফিক্স।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুড়িরডাবরির জঙ্গলে (Sundarban) ফের বাঘের হামলা Tiger)। কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সঙ্গীদের সামনেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গ্রাসে চিরঞ্জিত মণ্ডল (৩২)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালিদাসপুরের বাসিন্দা ওই যুবককে সোমবার সকালে বাঘ টেনে নিয়ে যায় গভীর জঙ্গলের দিকে। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
জানা গিয়েছে, পেশায় মৎস্যজীবী চিরঞ্জিত এদিন সকালে দুই সঙ্গীকে নিয়ে নৌকায় করে গিয়েছিলেন সুন্দরবনের খাঁড়িতে। বুড়িরডাবরির জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় নৌকা থামিয়ে তাঁরা কাঁকড়া ধরছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনজনেই জঙ্গলের দিকে পিঠ রেখে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই নীরবে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। মুহূর্তের মধ্যে নৌকায় উঠে চিরঞ্জিতের ঘাড়ে কামড়ে ধরে টেনে নিয়ে যায় গভীর বনে।
সহযাত্রীদের এক জন বলেন, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওকে নিয়ে পালায় বাঘটা। আমরা বাঁশ, লাঠি নিয়ে কিছুটা দূর অবধি গেছিলাম। কিন্তু ওর চিৎকার আর শোনা যায়নি। ভয়েই ফিরে আসি।”
মঙ্গলবার রাতে গ্রামে ফিরে আসেন ওই দুই সঙ্গী। তাঁদের কাছ থেকে খবর পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন চিরঞ্জিতের পরিবার। গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
ঘটনার খবর পেয়ে বনদফতরের আধিকারিকরা রাতেই বুড়িরডাবরির জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করেন। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ড্রোন এবং হ্যান্ডহেল্ড থার্মাল ক্যামেরা দিয়ে আরও তৎপর তল্লাশি।
এক বনকর্মী জানান, “এই এলাকায় বাঘের গতিবিধি আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এবার যে ভাবে জলের দিকেও চলে এল, তা চিন্তার বিষয়।”
উল্লেখ্য, প্রতিবছরই সুন্দরবনে বাঘের হানায় কয়েক জন মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়। বনদফতর বারবার নিষেধ সত্ত্বেও জীবিকার টানে তাঁরা জঙ্গলের গা ঘেঁষা এলাকায় ঢুকে পড়েন। চিরঞ্জিত মণ্ডলের খোঁজ মেলেনি বুধবার রাত পর্যন্তও।