দুর্নীতি-বিরোধী কঠোর অবস্থান এবং নির্ভীক রায়ের জন্য সুপরিচিত ৭২ বছর বয়সি সুশীলা কার্কি। এবার তিনিই হতে চলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 10 September 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি (former chief justice of Nepal Sushila Karki) এখন দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের (interim prime minister of Nepal) নেতৃত্ব নিতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ( KP Sharma Oli) পদত্যাগ করার পর গণ-আন্দোলনের মধ্যেই ৭১ বছর বয়সি এই আইনজ্ঞকে নেতৃত্বের জন্য বেছে নিয়েছেন জেন-জি প্রতিবাদে (Gen z movement) সামনের সারিতে থাকা তরুণ প্রজন্ম।
এ খবর রাষ্ট্র হওয়ার পরই সিএনএন-নিউজ১৮-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সুশীলা কার্কি ভারত ও বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) স্মৃতিচারণ করেছেন। সত্তরের দশকে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (Benaras Hindu University) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সুশীলা বলেন, “ভারতের নেতারা আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। ভারতীয় বন্ধুরা আমাকে বোনের মতো দেখেন। আমার এখনও বিএইচইউ-র শিক্ষকদের কথা মনে আছে। ভারত সবসময় নেপালের ভাল চেয়েছে।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুশীলা আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। মোদীজি সম্পর্কে আমার খুব ভালো ধারণা রয়েছে।” তরুণদের ভরসার দিয়ে কার্কি বলেন, “জেন-জি প্রজন্ম আমাকে স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার চালানোর দায়িত্ব দিয়েছে। আমি জাতীয় স্বার্থেই কাজ করব।”
বুধবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ৫,০০০-এরও বেশি নেপালি তরুণ অংশ নেন এবং সেখানেই সর্বাধিক সমর্থন পান সুশীলা কার্কি। প্রথমে কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে পছন্দের তালিকায় রাখলেও, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় সমর্থনের স্রোত ঘুরে যায় কার্কির দিকে। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে অন্তত এক হাজার তরুণের লিখিত সমর্থন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তা ছাড়িয়ে গিয়েছে আড়াই হাজারে।
ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির প্রধান কুলমান ঘিসিং, যুবনেতা সাগর ধাকাল এবং ধরান মেয়র হার্কা সাম্পাং-এর নামও। এমনকি জনপ্রিয় ইউটিউবার র্যান্ডম নেপালি-র নামও প্রস্তাবিত হয়েছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন, অন্য কেউ দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলেই তিনি সামনে আসবেন।
সুশীলা কার্কি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিলে তাঁকে প্রথমে দেখা করতে হবে সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল-এর সঙ্গে। এরপর রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পোডেলের অনুমোদন পেতে হবে।
কে এই সুশীলা কার্কি?
৭২ বছর বয়সি সুশীলা কার্কি নেপালের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী তাঁকে এই পদে নিয়োগ করেন। দুর্নীতি-বিরোধী কঠোর অবস্থান এবং নির্ভীক রায়ের জন্য তিনি সুপরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে এক মন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছিল।
আইনি জীবনে প্রবেশের আগে তিনি শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০০৬ সালে সাংবিধানিক খসড়া কমিটির সদস্য হন, ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাড-হক বিচারপতি এবং ২০১০ সালে স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০১৬ সালে কিছু সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করার পর পূর্ণ দায়িত্ব পান। এবার তিনিই হতে চলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।