নেপালে অস্থায়ী সরকারের প্রধান পদে সবচেয়ে এগিয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। সহিংস আন্দোলনের পর জেন জেড তরুণদের ভারচুয়াল বৈঠকে কার্কির নামেই পড়েছে সবার বেশি সমর্থন।

সুশীলা কার্কি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 20:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে তৈরি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান পদে নতুন মুখ হিসেবে উঠে এলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সহিংস প্রতিবাদের পর জেন জি-রা ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়। অনলাইনে আয়োজিত আলোচনায় যোগ দেন পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী। সেখানেই কার্কির নাম সবচেয়ে বেশি সমর্থন পায়।
প্রথমে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহকে সম্ভাব্য পছন্দ হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বহুবার যোগাযোগ করেও তাঁর সাড়া না মেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঘুরে যায় অন্য প্রার্থীদের দিকে। এক জেন জি প্রতিনিধি বলেন, ‘যেহেতু তিনি আমাদের ফোন ধরেননি, তাই অন্য নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন সুশীলা কার্কি।’
কার্কিকে আগেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ন্যূনতম এক হাজার লিখিত স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছিলেন সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তিনি ২,৫০০-রও বেশি স্বাক্ষর পেয়েছেন, যা তাঁর নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়েছে।
যদিও কার্কির নাম এগিয়ে থাকলেও ভারচুয়াল বৈঠকে আলোচিত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রধান কুলমান ঘিসিং, যুবনেতা সাগর ঢাকাল এবং ধারান পৌরসভার মেয়র হার্কা সাম্পাং। সমর্থন পেয়েছেন ইউটিউবার র্যান্ডম নেপালিও। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অন্য কেউ রাজি না হলে তবেই তিনি পদ গ্রহণ করবেন।
এখনও অনেকটা পথ বাকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্কি যদি প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে প্রথমে তাঁকে সাক্ষাৎ করতে হবে সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে। তারপর রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেলের অনুমোদন চাইতে হবে।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ঘিরে জেন জিদের প্রতিবাদ ভয়াবহ আকার নেয়। সোমবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়। আগুন ধরানো হয় পার্লামেন্ট ভবন, রাষ্ট্রপতির দফতর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, বিভিন্ন দলের সদর দফতর ও শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার স্ত্রী তথা বর্তমান বিদেশমন্ত্রী ড. অর্জু রানা দেউবার কাঠমান্ডুর বাড়িও আক্রান্ত হয়। দেশজুড়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জখম হন একাধিক মানুষ।
এদিকে ৭২ বছরের সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি। ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক পরিষদের সুপারিশে তাঁকে নিয়োগ করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী।
কার্কি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা দিয়ে। পরে বিচারব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে নির্ভীক, দক্ষ ও সৎ বিচারক হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০৬ সালে তিনি সাংবিধানিক খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর স্থায়ী হন তিনি। ২০১৬ সালে কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে কাজ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতির পদে আসীন হন।