গোটা দেশ কার্যত সেনার অধীনে চলে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করা হয়েছে সেনার তরফে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের (Nepal) অশান্ত পরিস্থিতির জেরে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে (Kathmandu Airport) আটকে রয়েছেন ৪০০-রও বেশি ভারতীয় নাগরিক (Indians)। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এ বার বিশেষ বিমানের (Special Plane) ব্যবস্থা করতে চলেছে ভারত। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে ফেরানো যায়, তা নিশ্চিত করতে দিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। এর জন্য নেপালি সেনার (Nepali Army ) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকেরা। লজিস্টিকস ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আটকে পড়া নাগরিকদের দ্রুত ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই দুই দেশ যৌথভাবে পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, গোটা দেশ কার্যত সেনার অধীনে চলে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করা হয়েছে সেনার তরফে।
সোমবার সকাল থেকেই আতঙ্কে বহু ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরছেন। নেপালের দিকে কাকারভিটা এবং বিরাটনগর সীমান্ত দিয়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এবং যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল।
বুধবার সীমান্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন ADG (কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স) অজয় নন্দ, DIG (SSB) মঞ্জিত সিং এবং দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদব।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এডিজি সংবাদমাধ্যমে বলেন, কতজন ভারতীয় এখনও পর্যন্ত নেপালে আটকে রয়েছেন সে বিষয়ে তাঁদের হাতে পোক্ত কোনও তথ্য নেই। সংখ্যা ৩০০ বা তার বেশি হতে পারে। তবে বেশিরভাগের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁরা আশা করেন, নেপালের পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি শান্ত এবং স্বাভাবিক হবে। তারপর আলোচনা করে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এখন জেন জি গোষ্ঠী দাবি করেছে, নেপালে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ‘ছিনতাই’ করে অশান্তি পাকিয়েছে ‘বহিরাগতরা’। গোষ্ঠীর দাবি, গত দুদিন ধরে যে ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড, লুটতরাজসহ ধ্বংসাত্মক কাজ চলছে তার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনে বাইরে থেকে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদী শ্রেণির লোকজন জেন জি-র মুখে কাদা মাখাতে এসব হিংসা ও ধ্বংস চালাচ্ছে।