রাজধানী কাঠমাণ্ডুর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলিতেও জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নামানো হয়েছে।

ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল
শেষ আপডেট: 5 October 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টিপাতের (Nepal heavy rain) জেরে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল (Nepal flood and landslide)। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত শুক্রবার থেকে লাগাতার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRF)।
এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র শান্তি মহত রবিবার জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আরও পাঁচজন নিখোঁজ।”
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পূর্ব নেপালের ইলাম জেলায়। সেখানে এক রাতের ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসে ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসক সুনিতা নেপাল জানান, “রাতে টানা ভারি বৃষ্টির পর পাহাড় ধসে পড়ে একাধিক গ্রাম চাপা পড়ে। সড়কপথ বন্ধ থাকায় কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে, তাই উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করছেন।”
রাজধানী কাঠমাণ্ডুর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলিতেও জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। নদীর ধার ঘেঁষা বসতিগুলি প্লাবিত হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নামানো হয়েছে। তাঁরা হেলিকপ্টার ও মোটরবোটের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন।
এদিকে, একাধিক হাইওয়ে ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে, ফলে শত শত যাত্রী - যাঁদের অনেকে হিন্দু উৎসব দশাইন উদযাপন শেষে ফিরছিলেন, তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকালে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেমন নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনত্ব, তীব্রতা ও সময়সূচি আরও অনিয়মিত হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে, অল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এক রাতের টানা বৃষ্টিতে তছনছ উত্তরবঙ্গ, দুই লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে, প্লাবিত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের বহু এলাকা। দক্ষিণবঙ্গেও একইভাবে ঝড়-বৃষ্টি ও জলবন্দি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি নিজে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।