জ্বালানি সরবরাহে টান, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে পড়েই নেপাল সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি দফতরে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি ঘোষণা করেছে নেপাল
শেষ আপডেট: 5 April 2026 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়তেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নেপাল (Iran war fuel impact Nepal)। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি দফতরে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার (Nepal two-day holiday government offices)। রবিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শনিবারের পাশাপাশি রবিবারও সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে পালিত হবে (Nepal fuel crisis weekly off)। এতদিন নেপালে সরকারি অফিসে শুধুমাত্র শনিবারই ছিল সাপ্তাহিক ছুটি।
সরকারের মুখপাত্র সাস্মিতা পোখারেল জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে অফিসের কাজের সময়ও বদলানো হয়েছে। এখন থেকে সরকারি দফতর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
পোখারেল জানান, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জেরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
ছুটি ও কাজের সময় - কী কী বদলাচ্ছে?
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,
শনিবার ও রবিবার, দু’দিনই বন্ধ থাকবে সরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নতুন কাজের সময় প্রযোজ্য হবে শুধুমাত্র সরকারি দফতরের ক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নয়।
এতদিন নেপালের সরকারি অফিসের কাজের সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। নতুন নিয়মে এক ঘণ্টা আগে কাজ শুরু হওয়ায় কার্যত কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের পটভূমি
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নেপালের মতো আমদানিনির্ভর দেশে।
এর আগেই নেপাল বিমান চলাচলের জ্বালানির দাম বড়সড় বাড়িয়েছিল। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ ১১৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নেপাল অয়েল কর্পোরেশন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উড়ানে জ্বালানির দাম বেড়েছে,
তাদের দাবি, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনকে সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে এবং জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন এড়াতেই এই মূল্যবৃদ্ধি জরুরি ছিল।
চাপের মুখে নেপাল সরকার
জ্বালানি সরবরাহে টান, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে পড়েই নেপাল সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সপ্তাহে দু’দিন ছুটি ঘোষণা এবং কাজের সময় বদল - দুটোই মূলত জ্বালানি খরচ কমানো এবং সরবরাহের ওপর চাপ সামলানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে সপ্তাহে ৪ দিন কাজ হবে এবং প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কা। নতুন নিয়ম মূলত সরকারি ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছিল সরকার। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক স্তরের সরকারি কর্মচারীরা এই ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন। শুধু সরকারি দফতরই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে সমস্ত সরকারি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদালতও। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে কার্যত চার দিনই কাজকর্ম চলবে।
এবার দেশের সঙ্কট মোকাবিলায় কর্মদিবস কমানোর পথে হাঁটল নেপালও।