ভারত থেকে বাংলাদেশের ডিজেল আমদানির এবছর এক দশক হতে চলল। ২০১৬ সালে প্রথম ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ ছিল বাংলাদেশের মোট আমদানির মাত্র এক শতাংশ।

বাংলাদেশের পাশে ভারত!
শেষ আপডেট: 12 March 2026 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশকে (Bangladesh) আরও ডিজেল দেওয়ার আর্জি বিবেচনা করছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান।
মঙ্গলবার থেকেই বাংলাদেশকে (India-Bangladesh Fuel Deal) বাড়তি ডিজেল (Disel) দেওয়া শুরু করেছে ভারত। এজন্য বিগত প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকা দু'দেশের মধ্যকার মৈত্রী পাইপলাইন ফের চালু করা হয়েছে। অসমের নুমালিগড় থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুরে যাচ্ছে ডিজেল (Delhi-Bangladesh Trade)। মঙ্গলবার পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাঠানো হয় বাংলাদেশে (Bangladesh)। ঢাকার (Dhaka) তরফে তখনই আরও জানানো হয়েছিল আগামী চার মাসে অন্তত ৫০, হাজার টন ডিজেল চায় তারা।

ঢাকায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
এই সরবরাহ শুরুর পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার (Indian High Commissioner) প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মামুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের। দুই মন্ত্রী ভারতের হাইকমিশনারের কাছে বাড়তি ডিজেল দেওয়ার আর্জি জানান।
ওই বৈঠকের পরেই বাংলাদেশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয় আরও বেশি পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করতে।
রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাড়াও আরও দুই প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা ডিজেল চেয়ে আর্জি জানিয়েছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে ডিজেল উৎপাদন এবং সরবরাহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তবে নয়া দিল্লির কূটনৈতিক মহলের খবর ভারত এই জ্বালানি সংকটে প্রতিবেশী দেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নয়া মাত্রা দিতে আগ্রহী। যেমন করোনার সময় প্রতিবেশী সব দেশকেই টিকা সরবরাহ করে কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তখন করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এবং ওষুধপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল প্রতিবেশী দেশগুলিকে।
ভারত থেকে বাংলাদেশের ডিজেল আমদানির এবছর এক দশক হতে চলল। ২০১৬ সালে প্রথম ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ ছিল বাংলাদেশের মোট আমদানির মাত্র এক শতাংশ। এখন তা বেড়ে ১৬ শতাংশ হয়েছে। পড়শি দেশটি যে সব দেশ থেকে ডিজেল আমদানি করে থাকে ভারত তার মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছে। চলতি বছরে ভারত থেকে ডিজেল রপ্তানি অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে চালু হওয়া মৈত্রী পাইপলাইন মোঃ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ভারত থেকে দ্রুত এবং অল্প খরচের ডিজেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। তারেক রহমানের সরকার চলতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেই মৈত্রী পাইপলাইন নতুন করে চালু করেছে। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে ভারতের ডিজেল সরবরাহ। ভূগর্ভস্থ এই পাইপ লাইন চালু হওয়ার ফলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিজেল দেওয়া যাচ্ছে, তাই শুধু নয় সরবরাহের খরচও যৎসামান্য।