বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শ্রীলঙ্কা গত কয়েক বছরে যে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তাই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজের দিন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেষ আপডেট: 16 March 2026 21:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার থেকে সপ্তাহে চার দিন কাজ হবে, আর প্রতি বুধবার থাকবে সরকারি ছুটি (Sri Lanka four day work week)। সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা হিসেবে শ্রীলঙ্কায় নতুন কর্মসূচি (Sri Lanka fuel shortage safety measures) ঘোষণা করল সরকার (Sri Lanka Government)। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের প্রভাব যে দূরবর্তী দেশগুলির অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে পারে, সেই আশঙ্কাই এবার সামনে এল স্পষ্টভাবে।
সোমবার শ্রীলঙ্কা সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের অত্যাবশ্যক পরিষেবার কমিশনার জেনারেল প্রভাত চন্দ্রকীর্তি বলেন, “১৮ মার্চ থেকে কার্যকরী হবে এই সিদ্ধান্ত। সেই অনুযায়ী প্রতি বুধবারকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।”
সরকারি এই নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন নিয়ম মূলত সরকারি ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক স্তরের সরকারি কর্মচারীরা এই ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন। শুধু সরকারি দফতরই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে সমস্ত সরকারি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদালতও। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে কার্যত চার দিনই কাজকর্ম চলবে।
একইসঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রকেও এই উদ্যোগ বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাত চন্দ্রকীর্তি। তাঁর কথায়, শুধু সরকার নয়, গোটা দেশকেই সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। শ্রীলঙ্কার মতো দ্বীপরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব দ্রুত পড়তে পারে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আপাতত বহু সরকারি প্রশাসনিক কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। তবে অত্যাবশ্যক পরিষেবাগুলিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। স্বাস্থ্য পরিষেবা, বন্দর, জল সরবরাহ এবং কাস্টমস দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে কর্মীরা প্রতিদিনই কাজ চালিয়ে যাবেন।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঠিক একদিন আগেই জ্বালানি বিতরণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা সরকার। খুচরো স্তরে জ্বালানি বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে চালু করা হয়েছে কিউআর কোড-ভিত্তিক একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যানবাহনের ধরন অনুযায়ী গ্রাহকদের সাপ্তাহিক জ্বালানি কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের মতে, এতে একদিকে যেমন জ্বালানির অপচয় কমবে, তেমনই বাজারে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শ্রীলঙ্কা গত কয়েক বছরে যে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তাই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজের দিন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক স্তরে যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনই শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে। কারণ সরকারি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদালত - সব ক্ষেত্রেই সপ্তাহে চার দিন কার্যত নিয়মিত কাজ চলবে।
পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ কতটা প্রভাবিত হয়, তার উপরই ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত কতদিন বজায় থাকবে, তা নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।