Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা এলেও তিনি অলক্ষ্যে কেন? মোজতবাকে ঘিরে ধোঁয়াশায় আমেরিকা-ইজরায়েল

১২ মার্চ মোজতবার প্রথম বিবৃতি এবং ২০ মার্চ ইদ এবং নওরোজ উপলক্ষে বার্তা, দুটোই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে পড়ে শোনানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও দেখা যায়নি তাঁকে। এই অনুপস্থিতিই বাড়িয়ে তুলেছে জল্পনা - আসলে কি তিনি ক্ষমতায় আছেন, নাকি আড়ালে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে সবটা?

মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা এলেও তিনি অলক্ষ্যে কেন? মোজতবাকে ঘিরে ধোঁয়াশায় আমেরিকা-ইজরায়েল

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 22 March 2026 16:08

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এখন কোথায় (where is Mojtaba Khamenei)? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের গোয়েন্দা মহলে (Iran Supreme Leader mystery)।

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তার পরেই ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত একবারও প্রকাশ্যে আসেননি তিনি।

১২ মার্চ তাঁর প্রথম বিবৃতি এবং ২০ মার্চ ইদ এবং নওরোজ উপলক্ষে বার্তা, দুটোই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে পড়ে শোনানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও দেখা যায়নি তাঁকে। এই অনুপস্থিতিই বাড়িয়ে তুলেছে জল্পনা - আসলে কি তিনি ক্ষমতায় আছেন, নাকি আড়ালে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে সবটা?

সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, মোজতবা খামেনেই বেঁচে থাকলেও দেশের উপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps) বা আইআরজিসিই নেপথ্যে আসল ক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে (IRGC power Iran)।

The Jerusalem Post-এর প্রতিবেদনে মার্কিন-ইজরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হলেও মোজতবা দেশের কাজ করার মতো শারীরিকভাবে সক্ষম। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর তাঁর সম্পূর্ণ দখল নেই।

এক মার্কিন আধিকারিক Axios-কে বলেন, “আমরা মনে করি না ইরান এমন ঝামেলায় গিয়ে একজন মৃত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেবে। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও প্রমাণ নেই যে তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”

মোজতবার এই অনুপস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দা ব্রিফিংয়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন নিশ্চিত নয় যে, তেহরানে আসল ক্ষমতা কার হাতে।

তেল আবিবের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিস (Institute for National Security Studies)-এর ইরান বিশেষজ্ঞ রাজ জিম্মত মনে করছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মোজতবার প্রকাশ্যে আসা প্রায় অসম্ভব। তাঁর কথায়, আঘাতের মাত্রা এতটাই গুরুতর হতে পারে যে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করলেও তা থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার বাস্তব চিত্র সামনে চলে আসবে - এই আশঙ্কাতেই তা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

১২ মার্চের বিবৃতিতে, যা এক টিভি সংবাদ পাঠক পড়ে শোনান, মোজতবা আমেরিকা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, শহিদদের রক্তের বদলা নেবে ইরান এবং সেই প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে।

২০ মার্চ, পারস্য নববর্ষের দিন, আরেকটি লিখিত বার্তায় তিনি ইরানের মানুষের ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। একই দিনে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাঁকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে দেখা যায়।

এই সময়েই একের পর এক ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে ইজরায়েলি হামলায়। ১৭ মার্চ নিহত হন আলি লারিজানি, যিনি ইরানের নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম মুখ ছিলেন। তার একদিন আগে, ১৬ মার্চ, প্রাণ হারান শীর্ষ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি।

তবে এই পরিস্থিতিতেও ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে না।”

প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “সর্বোচ্চ নেতাও শহিদ হয়েছেন, তবু রাষ্ট্রের কাজ থেমে থাকেনি।”

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১,২৭০। পাল্টা জবাবে ইরান আরব দুনিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা।

সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষমতার আসল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে - মোজতবা খামেনেই, না আইআরজিসি? এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় ধাঁধাগুলির একটি।


```