গুরুতর অসুস্থ মোজতবা খামেনেই, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই—এমনই দাবি গোয়েন্দা রিপোর্টে। ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এবার কী করবেন ট্রাম্প?

মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 7 April 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader) মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) গুরুতর অসুস্থ, এমনই দাবি উঠল একটি গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টে (Intelligence Memo)। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই।
আমেরিকা (USA) ও ইসরায়েলের (Israel) গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ক্বম (Qom) শহরে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ৫৬ বছরের মোজতবা, যিনি সম্প্রতি তাঁর বাবা আলি খামেনেই (Ali Khamenei)-এর মৃত্যুর পর এই পদে বসেন, এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। তাঁর নামে যে বিবৃতি প্রচারিত হয়েছে, তা সরাসরি তাঁর মুখ থেকে শোনা যায়নি—টেলিভিশনে (State Television) সেগুলি পড়ে শোনানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, হামলায় (Strike) তিনি সামান্য পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু নতুন রিপোর্টে দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না এখনই। এই পরিস্থিতি সেই হামলার ফল, নাকি পরে নতুন করে কোনও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ক্বম শহরেই আলি খামেনেইয়ের দেহ শায়িত রাখার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে একটি বড় সমাধি (Mausoleum) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। খামেনেইয়ের কবরের পাশে একাধিক দেহ কবর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সেখানে সমাধিস্থ করা হতে পারে।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারি। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Power Plant) ও সেতু (Bridge)-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে। তাঁর দাবি, এক রাতেই গোটা দেশকে লক্ষ্য করে হামলা সম্ভব। তাতে উড়ে যাবে বেশিরভাগ অংশই।
আমেরিকার পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। না মানলে বড়সড় সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি রয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধ (War Crime) নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, এরই মধ্যে ইসরায়েল একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় (Petrochemical Facility) হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর এক শীর্ষ আধিকারিককে মেরে ফেলেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব (10-point Plan) পাঠিয়েছে সংঘাত মেটাতে। স্থায়ী সমাধান না হলে আপাতত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার কথাও হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে, আর তার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অসুস্থতা অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে নতুন করে।