সূত্রের খবর, বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ করেন।

শেষ আপডেট: 26 September 2025 09:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন। ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ করেন। তাঁদের মূল অভিযোগ, যুদ্ধ বিরতির পরও ভারত উত্তেজনা বজায় রাখছে। ফলে উপমহাদেশে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।
পাকিস্তানকে অতীতে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর বলেছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠক শেষে বলেছেন, এক মহান দেশের দুই মহান নেতার সঙ্গে কথা হল। পাক সরকার ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তাঁকে নোবেল পুরস্কার প্রস্তাবের ভূয়সী প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়েজিত অনুষ্ঠানের ভাষণে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির দায় নয়াদিল্লির উপর চাপিয়ে দিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশে অশান্তি তৈরির রাস্তা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভাবতে বসে হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। ইউনুসের আরও অভিযোগ, বাংলাদেশে ছাত্ররা যে গণ অভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে ভারত তা মানতে পারছে না। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির পিছনে সেটাও একটা কারণ।
নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০ তম অধিবেশন চলছে। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রনেতা এখন সেখানে্। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবারের অধিবেশনে যোগ দেননি। ভারতীয় দলের নেতৃত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
এই সুযোগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস নিজেদের মধ্যে একান্ত বৈঠক করে ভারতকে নিশানা করা শুরু করেছেন।
বাংলাদেশে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি সরে যাবেন বলে ইউনুস নিউইয়র্কে গিয়েও ঘোষণা করেছেন। সেই হিসাবে রাষ্ট্রসংঘের সভায় এরাই তাঁর শেষ যোগদান।
বিগত কয়েকমাস যাবত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবাদ অনেকটাই কমে এসেছিল। দু'পক্ষই কম কথা বলার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল। ভারত গোড়া থেকেই জানিয়ে আসছে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ামাত্র নয়াদিল্লি পুরোদস্তুর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করবে। সেই বোঝাপড়ার তাল কেটে দিয়ে নিউইয়র্কে গিয়ে ইউনুস লাগাতার ভারত বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন৷
ভারতের পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের। একমাস আগে তাঁর নাম চূড়ান্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দিল্লি এসে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আমেরিকার তাঁর সঙ্গে দেখা করে ভারতের বিরুদ্ধে কান ভাঙিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সঙ্গে নিউইয়র্কে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশ সরকারের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, মার্কিন এই কর্তাকে ভারতের বিরুদ্ধে চারটি বিষয়ে নালিশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।
এক. ইউনুসের প্রধান অভিযোগ, বাংলাদেশের পট পরিবর্তনকে ভারত স্বাগত জানায়নি। অথচ, গোটা বিশ্ব দেখেছে, মানুষ রাস্তায় নেমে এসে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করেছে।
দুই. ভারত বাংলাদেশের জুলাই অগাস্ট বিপ্লবকে ইসলামিক বিপ্লব হিসাবে তুলে ধরছে। অথচ সমাজের সব ধর্ম মতের মানুষ সরকার পরিবর্তনের সংগ্রামে শামিল হয়েছিল।
তিন. ভারতীয় মিডিয়া লাগাতার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নানাভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।
৪. বাংলাদেশে অস্থিরতার মূলে আছেন শেখ হাসিনা। তিনি দিল্লিতে বসে কলকাঠি নাড়ছেন। ভারত সরকার শুধু তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে তাই-ই নয়, তাঁর মুখ বন্ধ রাখার কোনও পদক্ষেপ করেনি। ইউনুস মার্কিন কর্তাকে বলেছেন, এই ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সহায়তা চেয়েও পাননি।
৫. ইউনুসের পঞ্চম অভিযোগ ছিল সার্ক বা সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন নিয়ে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার অভিযোগ নয়াদিল্লির আপত্তিতে সার্কের শীর্ষ বৈঠক ২০১৬ সাল থেকে বন্ধ৷
প্রসঙ্গত, ইউনুস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্কের পুনরুজ্জীবন নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে চলতি মার্কিন সফরেও কথা বলেছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে বিশ্ব নেতারা এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সার্ক নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনুস এর আগে তিনবার বিশ্বের তিন শহরে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন৷