ইরান-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের হিসেব অনুযায়ী, ইরানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০-রও বেশি মানুষ। লেবাননে মৃতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত (Middle East Tension) সপ্তম দিনে আরও তীব্র রূপ নিল। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি (US-Israel Iran Conflict)। বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনা (IDF)। একই সময়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে ইজরায়েল। সেই হামলায় অন্তত আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাত (Iran Israel War) শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের হিসেব অনুযায়ী, ইরানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০-রও বেশি মানুষ। লেবাননে মৃতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি। ইজরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় এক ডজন মানুষ। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার বাহিনীর ছয় জন সেনারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান প্রবল বোমাবর্ষণের মুখে পড়ে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা জোমহুরি অ্যাভিনিউতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এই রাস্তা রাজধানীর প্রধান কেনাকাটার অঞ্চলগুলির একটি হিসেবে পরিচিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, জোমহুরি স্ট্রিটের একাধিক অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে জামি দ্রুতগামী বাস পরিষেবার একটি প্রধান স্টেশনও। কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনও আঘাতে ভেঙে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হামলার পর তেহরানের মধ্য ও পূর্ব অংশের বহু রাস্তা প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আতঙ্কে অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হননি।
অন্যদিকে ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে শাসক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে বৃহৎ আকারের হামলা চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বৈঠক হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় দূরদর্শনে জানানো হয়েছে। সেখানে দেশের বিশেষ ধর্মীয় পরিষদের বৈঠক আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়। এই পরিষদই ভবিষ্যতে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে নির্বাচন করে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেহি এবং ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি রেজা আরাফি। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এদিকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ইরানের উপ বিদেশমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদে আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘাত ইরানের অস্তিত্বের লড়াই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারস্য উপসাগরে আমেরিকার সামরিক নজরদারির উদ্দেশ্য কী। একই সঙ্গে তিনি এই অভিযোগও খারিজ করেন যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ইরানের নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে মন্তব্য করা হলেও আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নিজের দেশেই সব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা যেখানে সংঘাতকে খেলাধুলার মতো ভাবছে, সেখানে ইরান কৌশলগত লড়াইয়ের হিসাবেই পরিস্থিতিকে দেখছে।