আইটি বিভাগের অনেকে বলছেন, পাকিস্তান এখনও আন্তর্জাতিক আইটি আউটসোর্সিং শিল্পে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। ভারতের থেকে এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে তারা।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 July 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা। বিশ্বের অন্যতম নামী তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফট (Microsoft) বন্ধ করে দিল তাদের পাকিস্তানের শাখা। গত ২৫ বছর ধরে পাকিস্তানে সক্রিয় ছিলতারা। তবে এবার থেকে আর কোনও স্থানীয় অফিস রাখবে না, বরং আঞ্চলিক হাব ও অনুমোদিত রিসেলারদের মাধ্যমে পরিষেবা দেবে বলে জানা যাচ্ছে।
মাইক্রোসফটের তরফে টেকক্রাঞ্চ-কে জানানো হয়েছে, এটি তাদের একটি আন্তর্জাতিক কৌশলগত সিদ্ধান্তের অঙ্গ। এর ফলে গ্রাহকদের পরিষেবা বা চুক্তির ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা।
তবে এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই চাকরি হারানোর ভয় পাচ্ছেন। যদিও সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্তে মাত্র পাঁচ জন কর্মী চাকরিহারা হচ্ছেন। কূটনীতিকদের দাবি, এই মুহূর্তে এর বিরাট কোনও প্রভাব লক্ষ্য করা না গেলেও ফল সূদুরপ্রসারী। প্রভাব পড়বে আপামোড় দেশের উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের অগ্রগতিতে।
যদিও তাদের দাবি, মাইক্রোসফট ভারতে যেমন উন্নয়নমূলক ও ইঞ্জিনিয়রিং কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, পাকিস্তানে তেমন কিছু করেনি। শুধু বিক্রয় এবং যোগাযোগের কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল।
সম্প্রতি দ্বিতীয় ধাপে কর্মী ছাঁটাই বা লে অফের পথে হাঁটে এই সংস্থা। এই পাঁচজনের চাকরি যাওয়া তারই অংশ বলে জানা যাচ্ছে। প্রাক্তন মাইক্রোসফট পাকিস্তান প্রধান জওয়াদ রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করে লেখেন, 'যখন মাইক্রোসফের মতো সংস্থাও টিকে থাকতে পারছে না, তখন সরকারকে আরও সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।' তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে গ্লোবাল সংস্থাগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ভর কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভিও মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, 'মাইক্রোসফ্ট পাকিস্তানে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবলেও একবার শেষমেশ ভিয়েতনামকে বেছে নেয়, কারণ সেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেক বেশি।'
এই ঘটনার পর প্রতিবেশী দেশে হইচই পড়ে গেছে। সরকারের বিরোধিতায় মাঠেও নেমেছে অনেকে। কয়েকদিন আগে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছিল, দেশের পাঁচ লক্ষ তরুণকে আন্তর্জাতিক মানের আইটি সার্টিফিকেশন (যার মধ্যে মাইক্রোসফটের প্রশিক্ষণও রয়েছে) দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ সেই সময়েই মাইক্রোসফ্ট দেশে তাদের শাখা গুটিয়ে নেওয়ায় ওই ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
আইটি বিভাগের অনেকে বলছেন, পাকিস্তান এখনও আন্তর্জাতিক আইটি আউটসোর্সিং শিল্পে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। ভারতের থেকে এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে তারা। এই প্রেক্ষাপটে মাইক্রোসফটের বিদায় শুধু একটি সংস্থার চলে যাওয়া নয়, ‘ওয়েক-আপ কল’হিসেবে দেখছেন রাজনীতিকরা।