শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পুলিশের আচরণ ও বোর্ডের ভূমিকায় স্পষ্ট মনোভাব জানতে চাইতে পারে হাইকোর্ট, এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 July 2025 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা শিক্ষকদের (Jobless Teachers) বিরুদ্ধে পুলিশের (Police) অতিসক্রিয়তার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় তাঁদের একের পর এক নোটিস পাঠাচ্ছে পুলিশ। এমনকী কখনও বাড়িতে, কখনও বা স্কুলে গিয়ে, পড়ুয়াদের সামনেই নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘সামাজিক অবক্ষয়’ বলেই চিহ্নিত করছেন তারা।
মামলাকারী দুই শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল ও সঙ্গীতা সাহার বক্তব্য, “আমরা অপরাধী নই। শুধু অধিকার চেয়ে বিক্ষোভ করেছিলাম।” এদিকে, শিক্ষকদের হয়ে আদালতে সওয়াল করে আইনজীবী জানান, মামলা দায়ের হওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত ৮-৯টি নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁদের আর্জি, “এই এফআইআর ও নোটিসগুলি বাতিল করা হোক।”
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়ে দেন, একাধিক শিক্ষক পৃথক পৃথক বা যৌথভাবে নোটিস চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। তাঁর মন্তব্য, “শুধু একজনের আবেদনের ভিত্তিতে সকলের কথা শোনা সম্ভব নয়। তবে ১০০ জন একসঙ্গে মামলা করলেও শুনব। কাউকে ফিরিয়ে দেব না।”
বিচারপতির পরামর্শ, “যাঁরা পুলিশি হয়রানির শিকার বলে মনে করছেন, প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ মামলা দায়ের করেন অথবা সম্মিলিতভাবে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা করেন। তবে অন্যের মামলায় যুক্ত হওয়া যাবে না।”
শিক্ষকদের পক্ষের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার অভিযোগ করেন, “বোর্ড আদালতের নির্দেশের পরেও শোকজ নোটিস পাঠিয়ে যাচ্ছে।” জবাবে বিচারপতি বলেন, “আমার নির্দেশ অমান্য করে থাকলে, ব্যবস্থা নিতে আমি বাধ্য হব।”
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী আগস্ট মাসে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পুলিশের আচরণ ও বোর্ডের ভূমিকায় স্পষ্ট মনোভাব জানতে চাইতে পারে হাইকোর্ট, এমন ইঙ্গিত মিলেছে।