সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এএসি অভিযোগ করেছে, সাত দশকের রাজনৈতিক বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক অবহেলার শিকার পিওকে-র মানুষ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 September 2025 11:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) জুড়ে শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম আন্দোলন (Protest)। সোমবার থেকে আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (AAC)-র ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটার ডাউন ও হুইল জ্যাম ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকে দমাতে রবিবার রাত থেকেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ (Islamabad)। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার সেনা ও পুলিশ।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ
সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এএসি (AAC) অভিযোগ করেছে, সাত দশকের রাজনৈতিক বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক অবহেলার শিকার পিওকে-র মানুষ। তাদের ৩৮ দফার দাবি–পত্রে রয়েছে পিওক আইনসভায় পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ ১২টি আসন বাতিলের দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আসনগুলিই প্রকৃত গণতন্ত্রকে (Democracy) বাধা দিচ্ছে। এছাড়া সুলভ আটা, মঙ্গলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ন্যায্য বিদ্যুতের দাম, এবং ইসলামাবাদের দেওয়া বহু প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যকর করার দাবি তুলেছে তারা।
মুজাফফরাবাদের এক সমাবেশে এএসি নেতা শওকত নবাজ মির বলেন, “আমাদের আন্দোলন কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, এটা আমাদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াই। সত্তর বছরের বঞ্চনার পর মানুষ আর চুপ থাকবে না।''
প্রশাসনের কড়া অবস্থান
পরিস্থিতি সামলাতে শনিবার থেকে পিওকে-র নানা শহরে পতাকা মিছিল করেছে সেনা। পাঞ্জাব থেকে অতিরিক্ত সেনা আনা হয়েছে, ইসলামাবাদ থেকেও পাঠানো হয়েছে এক হাজার পুলিশ। সংবেদনশীল এলাকায় কড়া নজরদারি চলছে। রবিবার বহু শহরের প্রবেশ ও প্রস্থানপথ সিল করে দেয় পুলিশ।
এর মধ্যেই ভেস্তে গেছে প্রশাসন ও ফেডারেল মন্ত্রীদের সঙ্গে এএসি প্রতিনিধিদের টানা ১৩ ঘণ্টার বৈঠক। মূল দাবি–শরণার্থী কোটা ও প্রিভিলেজ ব্যবস্থা তুলে না দিলে সমঝোতা নয় - এই অবস্থানেই অনড় থাকে এএসি। ফলে সমঝোতা ভেস্তে যায়।
অশান্তির আশঙ্কা
মুজাফফরাবাদের ব্যবসায়ী সংগঠন রবিবার দোকান খোলা রাখে যাতে মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মজুত করতে পারে। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় দেখা গেছে, কনভয়ে করে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকছে শহরে। রাস্তায় স্লোগান উঠেছে পাকিস্তানি দখলদারির অবসানের দাবি জানিয়ে।
এএসি অবশ্য বলছে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণই থাকবে। তবে নিরাপত্তা জোরদার ও ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সোমবারের এই সর্বাত্মক বিক্ষোভ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের অধিকার আন্দোলনে এক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।