আশ্চর্য, অবিশ্বাস আর আবেগে কেঁপে উঠেছিল মাচাদোর গলা।

মারিয়া কোরিনা মাচাদো
শেষ আপডেট: 11 October 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝরাতে ফোন বেজে উঠেছিল হঠাৎই। ঘুমন্ত চোখে ফোন ধরেছিলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো (María Corina Machado)। ওপাশ থেকে নরম অথচ গম্ভীর কণ্ঠে শোনা গেল— “আমি ক্রিশ্চিয়ান বার্গ হার্পভিকেন বলছি, নরওয়ের নোবেস ইনস্টিটিউট থেকে। আপনাকে এটা জানাতে ফোন করেছি যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে— আপনিই ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী।”
আশ্চর্য, অবিশ্বাস আর আবেগে কেঁপে উঠেছিল মাচাদোর গলা। “ওহ মাই গড,”— ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলেছিলেন তিনি। তারপর কিছু সময় যেন বোবা হয়ে গিয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই ভেনেজুয়েলীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী।
নোবেল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর হার্পভিকেন তাঁকে জানান, “এই পুরস্কার শুধু আপনার জন্য নয়, আপনি যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার জন্যও। ভেনেজুয়েলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপনার নিরলস লড়াইয়ের স্বীকৃতি এটি।”
মাচাদো উত্তর দিয়েছিলেন অতি বিনয়ী গলায়, “ধন্যবাদ। কিন্তু দয়া করে বুঝবেন— এটা আমার একার কৃতিত্ব নয়। এই সম্মান ভেনেজুয়েলার মানুষের, যারা প্রতিদিন সংগ্রাম করছে। আমি শুধু তাদের একজন।”
গভীর আবেগে মাচাদো আরও বলেন, “এই পুরস্কার আমাদের সংগ্রামের এক বড় স্বীকৃতি। আমরা এখনো গন্তব্যে পৌঁছাইনি, কিন্তু আমরা জানি— জয় আমাদের হবেই। এই সম্মান আমাদের মানুষেরই প্রাপ্য।”
হার্পভিকেন তাঁকে অনুরোধ করেন, কয়েক মিনিটের জন্য খবরটি গোপন রাখতে, যতক্ষণ না ওসলো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হচ্ছে। কিছুটা স্তব্ধ হয়ে মাচাদো তখন বলেন, “আমার হয়তো অনেক সময় লাগবে এই খবর বিশ্বাস করতে। ধন্যবাদ… ধন্যবাদ।”
মাচাদো শেষবার বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ। কিন্তু এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, আমাদের দেশের মানুষের। এটা তাদের সাহস, ধৈর্য আর স্বপ্নের স্বীকৃতি।”
এ ভাবেই যেন এক নিঃশব্দ মধ্যরাতে বিশ্বের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করল এক ফোন কল— আর সেই ফোনকলের কেন্দ্রে ছিলেন মাচাদো, যিনি আজ ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বিশ্বমুখ হয়ে উঠেছেন।