গত এক বছরে মাচাদো, যিনি মাদুরোর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।

ট্রাম্প ও মাচাদো
শেষ আপডেট: 10 October 2025 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা তথা এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী (Nobel Peace Prize Winner) মারিয়া করিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)— দুই ভিন্ন মেরুর মানুষ, কিন্তু লক্ষ্য এক। দু’জনেরই প্রধান প্রতিপক্ষ নিকোলাস মাদুরো, ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট (Venezuelan President Nicolas Maduro)।
গত এক বছরে মাচাদো, যিনি মাদুরোর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। কারাকাসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাঁকে সাময়িকভাবে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। সেই বিক্ষোভ ছিল মাদুরোর তৃতীয় দফা প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার প্রতিবাদে। যে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল।
অন্য দিকে, ট্রাম্পের লক্ষ্য আরও সরাসরি, ‘রেজিম চেঞ্জ’। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যেমন মার্কো রুবিও, মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে জোর করে সরানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে সেই আলোচনাই ভেনেজুয়েলাকে আন্তর্জাতিক অশান্তির কেন্দ্রে এনে ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে আখ্যা দিয়েছে “আমেরিকান বিচার ব্যবস্থার পলাতক অপরাধী” বলে। ট্রাম্প নিজে আবার তাঁকে বলেছেন “ড্রাগ কার্টেলের নেতা” ও “অবৈধ শাসক”।
হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর তাঁর ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে মাদুরো এক সময় ভেনেজুয়েলার প্রধান শক্তিশালী মুখ ছিলেন। কিন্তু এখন দেশের ভেতরে মাচাদোর এবং বাইরে ট্রাম্পের চাপে চরম কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন তিনি।
মাদুরোর গ্রেফতারের জন্য পুরস্কারের অর্থ ট্রাম্প প্রশাসন বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করার পর মাচাদো ‘এক্স’-এ লিখেছিলেন, “আমরা, ভেনেজুয়েলাবাসী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাদের দেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে থাকা অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে ভেঙে দিতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন।”
নোবেল কমিটি শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করার সময় জানিয়েছিল, “ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এবং একনায়কতন্ত্র থেকে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের সংগ্রামে মাচাদোর অবিরাম লড়াই”–ই এই পুরস্কারের যোগ্যতা তৈরি করেছে।
বিদ্রূপের বিষয়, মাদুরোকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ ঘোষণা করা থেকে শুরু করে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, ট্রাম্প যা করছেন, তা আসলে সেই গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই সম্প্রসারণ, যার জন্য মাচাদোকে আজ নোবেল দেওয়া হয়েছে।
সম্ভবত এবার নোবেলজয়ী মাচাদো ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়বেন না। বরং মাদুরো-বিরোধী তাঁর কঠোর পদক্ষেপে মাচাদোই প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।